
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব এবং ইসলামপন্থী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেছেন আলেম ও চিন্তাবিদ মাওলানা ওবায়দুর রহমান নদভী। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, “সরকার খুব দ্রুতই পড়ে যাবে” এবং বিদেশি প্রভাবের মাধ্যমে ক্ষমতার রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বিদেশনির্ভর এজেন্সি দীর্ঘদিন কাউকে ক্ষমতায় রাখতে পারে না। বিদেশি অপশক্তি, এনজিও ও তথাকথিত ডিপ স্টেট যত কিছুই করুক, দেশের মানুষের অন্তরে ইসলাম, আজাদী ও ইনকিলাবের চেতনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদে লক্ষ্মীপুরের জননেতা সাইফুল্লাহ, আলেম নেতা মাওলানা মামুনুল হক, চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম এবং কবি মুহিব খান-এর মতো ব্যক্তিত্বদের থাকা প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক চাপের কারণে শতভাগ নিশ্চিত আসন থাকা সত্ত্বেও মুহিব খান মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি এবং তাঁকে একক প্রার্থীও করা হয়নি।
তিনি বলেন, জেনজি প্রজন্ম মুহিব খানের কবিতা ও সঙ্গীত শুনে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম শিখেছে এবং নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি কমপক্ষে ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে সংসদে যেতে পারতেন। তাঁর ভাষায়, “একাই একশ এমপির ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতেন।”
নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মনোনয়ন বাতিল, ভোট কৌশল ও সমঝোতার মাধ্যমে কিছু ছাত্রনেতাকে সংসদে নেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় প্রার্থীদের দুর্বল আসনে দাঁড় করানো এবং পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দল তৈরির উদ্দেশ্যে আসন বণ্টনের অভিযোগও করেন তিনি। এসব তথ্য সরকার দলের নেতারাই টকশোতে প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মাওলানা মামুনুল হক-এর সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে এবং তিনি তিনশ আসনের ধর্মীয় অধিকারের কণ্ঠস্বর হতে পারতেন।
তরুণ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে ২০২৪ সালের আলোচিত নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া-এর মতো ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু কৌশলে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বাহাদুরপুরের হানজালা নামের এক নেতার উপস্থিতি ভবিষ্যতে জাতি টের পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, “সাজানো নির্বাচন না হলে লাখো অনুসারীর শায়েখ মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম-সহ তাঁর দলের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন এমপি হওয়া স্বাভাবিক ছিল।” এছাড়া জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ এবং গহরপুরীর শায়খের সাহেবজাদা হাফিজ মাওলানা মুসলেহুদ্দীন সংসদ সদস্য হতে পারতেন বলেও উল্লেখ করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং যাদের সমর্থনে বিএনপি ভোট পেয়েছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক ইসলামবিরোধী শক্তির ইশারায় রাষ্ট্রীয় অঙ্গগুলো কারচুপি, হামলা, বাক্স ছিনতাই এমনকি ফলাফল পরিবর্তনের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদের সংসদের বাইরে রেখেছে।
তবে তিনি বলেন, প্রায় একশ বিরোধী এমপি নিয়ে সরকার এবার ইচ্ছামতো কিছু করতে পারবে না এবং হিসাব করে চলতে হবে। তাঁর দাবি, কওমী ধারার রাজনৈতিক দলগুলো একটি “মডেল মন্ত্রিসভা” গঠন করে সরকারের বিষয়ভিত্তিক সমালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ওয়াজ মাহফিলেও এসব আলোচনা চলবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি তাদের আচরণ পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ভিন্ন পথে যেতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ বিরোধী দলগুলোর দিকেই ঝুঁকতে পারে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, কওমী অঙ্গনের দলগুলো ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন ও নির্বাচনী কৌশলের মাধ্যমে “ধোঁকাবাজ শক্তিকে” মোকাবিলা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মাওলানা মামুনুল হক এবং চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম-এর মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে মাওলানা নদভী বলেন, তিনি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নন, তবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর অরাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৫ বছরে বহুবার মনোনয়নের প্রস্তাব এলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই বলেও জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে ধরনের লোকজন এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন, তাদের অনেকের সহকর্মী হওয়া তাঁর জন্য লজ্জা ও অপমানের। তিনি সবসময়ই পদ-পদবি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার পক্ষপাতী।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি জানান, দেশপ্রেমিক ও বিশ্বাসী দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আল্লাহ উত্তম ফয়সালা করবেন বলে তিনি আশাবাদী। গুরুতর অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি “দীন বিজয়ের পক্ষে জীবনের শেষ চাল” দেওয়ার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে লেখেন, “নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন কারীব। ওয়া বাশশিরিল মুমিনীন।”
(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত , লিংক- https://www.facebook.com/share/p/1AvhVsL2Uf/)





















