১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শপথে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি: ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট ড. মুইজ্জু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৬৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন মোহাম্মদ মুইজ্জু। তার এ সফরকে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর আমন্ত্রণে মালদ্বীপসহ মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন–এর কাছে শপথ গ্রহণ করবেন।

বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

উল্লেখ্য, ড. মুইজ্জু ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিনন্দন বার্তা দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি বলেও মত দিয়েছেন তারা।

শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা ও স্বীকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরের হাজিরহাটে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযুক্ত আটক

শপথে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি: ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট ড. মুইজ্জু

Update Time : ০৯:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন মোহাম্মদ মুইজ্জু। তার এ সফরকে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর আমন্ত্রণে মালদ্বীপসহ মোট ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন–এর কাছে শপথ গ্রহণ করবেন।

বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

উল্লেখ্য, ড. মুইজ্জু ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিনন্দন বার্তা দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি বলেও মত দিয়েছেন তারা।

শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা ও স্বীকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।