
মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এর উদ্যোগে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে এক আন্তরিক ও আবেগঘন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলেজের বিএনসিসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য ফয়জুন নাহার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতার কন্যা নওশীন তাবাসসুম খান চৌধুরী এবং পুত্র ফারহান খান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠাতার সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা, ত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি সুপরিচিত ও আস্থার শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন, যা আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু অবকাঠামো দিয়ে বড় হয় না; প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে তখনই, যখন সেখান থেকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দক্ষ ও মানবিক মানুষ গড়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তর করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ফয়জুন নাহার চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সম্পাদক সৈয়দ আহাম্মেদ লাভলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সম্মান জানানো হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠাতার নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় কলেজটি ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে এবং ব্রাহ্মণপাড়াকে একটি শিক্ষাবান্ধব জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।























