১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতির দুর সময়: আমাদের ভাবনা, প্রার্থনা ও করণীয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০২২ বার পঠিত হয়েছে

আজ আমরা জাতি হিসেবে এক গভীর দুরসময় অতিক্রম করছি। মানুষের অন্তরে শান্তির পরিবর্তে অস্থিরতা, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণা, বিশ্বাসের পরিবর্তে সন্দেহ জায়গা করে নিচ্ছে। রাজনীতির মাঠে বিভক্তি, অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, শিক্ষাঙ্গনে হতাশা—সব মিলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা আমাদের জাতিকে ঘিরে ফেলেছে। মনে হয় যেন চারদিকে শুধু অন্ধকার।

তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—কোনো জাতি যদি সত্য, ন্যায় ও ঐক্যের পথে অটল থাকে তবে অন্ধকার যতই গভীর হোক না কেন, ভোরের আলো আসবেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, দুরসময় স্থায়ী নয়; এটি সাময়িক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যারা ধৈর্য, সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, তারাই সফল হয়।

জাতি কখনোই একেবারে এক রকম থাকে না। কখনো উন্নতির শিখরে উঠে, আবার কখনো দুর্দশায় পতিত হয়। আজ আমরা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা মূলত আস্থার সংকট, নেতৃত্বের বিভক্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ একে অপরকে সন্দেহ করছে, রাজনীতি বিভাজিত হচ্ছে, অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে জাতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের ভেতরেই সুযোগ লুকিয়ে থাকে। যদি আমরা সঠিক পথে ফিরে আসতে পারি, তাহলে এই দুরসময়ও একদিন আমাদের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে

জাতির এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রথম শর্ত হলো দায়িত্ববোধ। প্রত্যেকে যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশ এগিয়ে যাবে।

* শিক্ষক যদি প্রকৃত শিক্ষক হয়ে সত্য ও জ্ঞানের আলো ছড়ান,
* ছাত্র যদি পড়াশোনাকে জীবনের মূল লক্ষ্য করে নেয়,
* ব্যবসায়ী যদি লোভের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়ের পথে চলেন,
* রাজনীতিবিদ যদি জনগণের সেবক হয়ে সত্যিকারের নেতৃত্ব দেন,

তাহলেই সমাজে শৃঙ্খলা, বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন *জাতীয় ঐক্য*। মতভেদ থাকতে পারে, ভিন্নমতও থাকতে পারে—কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিভক্ত জাতি কখনোই উন্নতির পথে এগোতে পারে না।

সবচেয়ে বড় সত্য হলো—শান্তি ও নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। তাই আমাদের উচিত আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নামাজ, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা। তিনি যেন আমাদের জাতিকে রক্ষা করেন, এই দুরসময় থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দেন, আমাদের অন্তরে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে দেন।

আমাদের জাতি অতীতে বহু সংকট মোকাবিলা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন—আমরা বারবার প্রমাণ করেছি, বাংলাদেশ মাথা নত করার জাতি নয়। আজও আমরা যদি একসঙ্গে এগিয়ে যাই, তাহলে এই অন্ধকার একদিন কেটে যাবে। প্রতিটি রাতের পর যেমন প্রভাত আসে, তেমনি এই দুরসময়ও কেটে গিয়ে নতুন আলোর সূচনা ঘটবে—এই বিশ্বাসই আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে।

✍ লেখক
*মোঃ শাহজাহান বাশার*
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

জাতির দুর সময়: আমাদের ভাবনা, প্রার্থনা ও করণীয়

Update Time : ০৭:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫

আজ আমরা জাতি হিসেবে এক গভীর দুরসময় অতিক্রম করছি। মানুষের অন্তরে শান্তির পরিবর্তে অস্থিরতা, ভালোবাসার পরিবর্তে ঘৃণা, বিশ্বাসের পরিবর্তে সন্দেহ জায়গা করে নিচ্ছে। রাজনীতির মাঠে বিভক্তি, অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, শিক্ষাঙ্গনে হতাশা—সব মিলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা আমাদের জাতিকে ঘিরে ফেলেছে। মনে হয় যেন চারদিকে শুধু অন্ধকার।

তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—কোনো জাতি যদি সত্য, ন্যায় ও ঐক্যের পথে অটল থাকে তবে অন্ধকার যতই গভীর হোক না কেন, ভোরের আলো আসবেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, দুরসময় স্থায়ী নয়; এটি সাময়িক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যারা ধৈর্য, সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, তারাই সফল হয়।

জাতি কখনোই একেবারে এক রকম থাকে না। কখনো উন্নতির শিখরে উঠে, আবার কখনো দুর্দশায় পতিত হয়। আজ আমরা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা মূলত আস্থার সংকট, নেতৃত্বের বিভক্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। মানুষ একে অপরকে সন্দেহ করছে, রাজনীতি বিভাজিত হচ্ছে, অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে জাতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের ভেতরেই সুযোগ লুকিয়ে থাকে। যদি আমরা সঠিক পথে ফিরে আসতে পারি, তাহলে এই দুরসময়ও একদিন আমাদের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে

জাতির এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রথম শর্ত হলো দায়িত্ববোধ। প্রত্যেকে যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশ এগিয়ে যাবে।

* শিক্ষক যদি প্রকৃত শিক্ষক হয়ে সত্য ও জ্ঞানের আলো ছড়ান,
* ছাত্র যদি পড়াশোনাকে জীবনের মূল লক্ষ্য করে নেয়,
* ব্যবসায়ী যদি লোভের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়ের পথে চলেন,
* রাজনীতিবিদ যদি জনগণের সেবক হয়ে সত্যিকারের নেতৃত্ব দেন,

তাহলেই সমাজে শৃঙ্খলা, বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন *জাতীয় ঐক্য*। মতভেদ থাকতে পারে, ভিন্নমতও থাকতে পারে—কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিভক্ত জাতি কখনোই উন্নতির পথে এগোতে পারে না।

সবচেয়ে বড় সত্য হলো—শান্তি ও নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। তাই আমাদের উচিত আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নামাজ, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা। তিনি যেন আমাদের জাতিকে রক্ষা করেন, এই দুরসময় থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দেন, আমাদের অন্তরে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে দেন।

আমাদের জাতি অতীতে বহু সংকট মোকাবিলা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন—আমরা বারবার প্রমাণ করেছি, বাংলাদেশ মাথা নত করার জাতি নয়। আজও আমরা যদি একসঙ্গে এগিয়ে যাই, তাহলে এই অন্ধকার একদিন কেটে যাবে। প্রতিটি রাতের পর যেমন প্রভাত আসে, তেমনি এই দুরসময়ও কেটে গিয়ে নতুন আলোর সূচনা ঘটবে—এই বিশ্বাসই আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে।

✍ লেখক
*মোঃ শাহজাহান বাশার*
সাংবাদিক ও কলামিস্ট