০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে চান মির্জা ফখরুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০২১ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের পক্ষে সাফ কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি— সবাই নির্বাচনে আসুক। এজন্য অনেকেই আমাকে ভারতের এজেন্ট কিংবা আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো অন্যায়ের পথে আমরা কেন হাঁটব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। আমরাও একই ভুল করলে প্রতিফল পেতে হবে।”

সোমবার কলকাতার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা, সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান, এবং ভারতের প্রভাব নিয়ে খোলাখুলি বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অশান্তি হবে না। তিনি দাবি করেন, “মানুষ এখন ভোটাধিকার ফেরত চাইছে, তারা নির্বাচনের অপেক্ষায়। উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।”

জামায়াত ইসলামী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার দাবি তুললেও ফখরুল স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যবস্থাতেই ভোট হবে। জামায়াত ভোটে অংশ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আর তাদের কোনো শক্তি নেই। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের আগুন ধরিয়েছিল তারা, কিন্তু আজ ডাকলেও লোক আসে না। বিএনপিকে সরকার গঠন থেকে বিরত রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০টি আসন চেয়েছিল। তবে বিএনপি সেই দাবি গুরুত্ব দেয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এখন সর্বোচ্চ আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, আগস্টের শুরুর দিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ও ড. ইউনূসের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেনাপ্রধান দ্রুত নির্বাচন চান, যাতে সেনারা ব্যারাকে ফিরতে পারে।
ইউনূসও ফেব্রুয়ারিতে ভোট সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আগ্রহী বলে ফখরুল উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। তবে সমস্যা হলো— ভারত সবসময় আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে দেখেছে। তিনি বলেন, “আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগের প্রচারে ভারত আমাদের জামায়াতের সঙ্গে এক করে দেখছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। মানুষে মানুষে যোগাযোগ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সিনেমা ও থিয়েটার বিনিময়— সবকিছুতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার অপকর্ম ও স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংস্কার চলবে, স্বৈরাচারীদের বিচার প্রক্রিয়াও চালু থাকবে। তবে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, “আমরা চাই না আওয়ামী লীগের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি হোক। এজন্যই বলছি— সবাই নির্বাচনে আসুক, প্রতিযোগিতা হোক, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক।”

 এ সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে আত্মবিশ্বাসী হলেও তারা চায় সব দলের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে চান মির্জা ফখরুল

Update Time : ১২:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের পক্ষে সাফ কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি— সবাই নির্বাচনে আসুক। এজন্য অনেকেই আমাকে ভারতের এজেন্ট কিংবা আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো অন্যায়ের পথে আমরা কেন হাঁটব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। আমরাও একই ভুল করলে প্রতিফল পেতে হবে।”

সোমবার কলকাতার বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা, সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান, এবং ভারতের প্রভাব নিয়ে খোলাখুলি বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অশান্তি হবে না। তিনি দাবি করেন, “মানুষ এখন ভোটাধিকার ফেরত চাইছে, তারা নির্বাচনের অপেক্ষায়। উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।”

জামায়াত ইসলামী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার দাবি তুললেও ফখরুল স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যবস্থাতেই ভোট হবে। জামায়াত ভোটে অংশ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আর তাদের কোনো শক্তি নেই। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের আগুন ধরিয়েছিল তারা, কিন্তু আজ ডাকলেও লোক আসে না। বিএনপিকে সরকার গঠন থেকে বিরত রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি আরও জানান, জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০টি আসন চেয়েছিল। তবে বিএনপি সেই দাবি গুরুত্ব দেয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এখন সর্বোচ্চ আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, আগস্টের শুরুর দিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ও ড. ইউনূসের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেনাপ্রধান দ্রুত নির্বাচন চান, যাতে সেনারা ব্যারাকে ফিরতে পারে।
ইউনূসও ফেব্রুয়ারিতে ভোট সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আগ্রহী বলে ফখরুল উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। তবে সমস্যা হলো— ভারত সবসময় আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে দেখেছে। তিনি বলেন, “আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগের প্রচারে ভারত আমাদের জামায়াতের সঙ্গে এক করে দেখছে, যা সম্পূর্ণ ভুল।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। মানুষে মানুষে যোগাযোগ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সিনেমা ও থিয়েটার বিনিময়— সবকিছুতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার অপকর্ম ও স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংস্কার চলবে, স্বৈরাচারীদের বিচার প্রক্রিয়াও চালু থাকবে। তবে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, “আমরা চাই না আওয়ামী লীগের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি হোক। এজন্যই বলছি— সবাই নির্বাচনে আসুক, প্রতিযোগিতা হোক, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক।”

 এ সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে আত্মবিশ্বাসী হলেও তারা চায় সব দলের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা।