
মোঃ শাহজাহান বাশার,
আমজনতার সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান বলেছেন, জামায়াতি ষড়যন্ত্রের কারণে আন্তর্জাতিক আদালতের ন্যায়বিচার আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এর চেয়ে পাড়ার মেম্বার ভালো বিচার করতে পারেন।’
আজ সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, “আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়া এবং শেখ হাসিনার নকল আইনজীবী বিষয়টি আমি গতরাতে প্রমাণ দিয়েছি। এখন হয় শেখ হাসিনার কোনো আইনজীবীই থাকবে না, না হয় তার দেওয়া প্রকৃত আইনজীবীকে থাকতে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জেড আই খান পান্না স্বেচ্ছায় আইনজীবী হতে চাইলেও তাকে হতে দেওয়া হয়নি। তাহলে ন্যায়বিচারে ভয় কিসের? কারো ক্ষমতা আছে জুলাইয়ে এত বড় ঘটনা ভুল প্রমাণিত করবে? একজন আইন ছাত্র হিসাবে আমি মনে করি, জামায়াতের ঠিক করে দেওয়া নকল আইনজীবী আর গণ-অভ্যুত্থানের মামলা নিয়ে আদালতে যে হাসি-তামাশা চলছে, তা ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জুলাই মামলাকে ভেলকা বানিয়েছে জামায়াতিরা।”
আমজনতার এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, “আসিফ নজরুল স্যার একটা তথ্য দিয়েছেন—এক দিনে ৮০০ মানুষকে জামিন দিয়েছে একটি বিচারিক বেঞ্চ। ৫ ঘণ্টায় ৮০০ মানুষকে জামিন দিলে প্রতি জামিন শুনানিতে কত মিনিট সময় দিয়েছে? ৫ ঘণ্টায় ৩০০ মিনিট হলে প্রতি শুনানির জন্য সময় নিয়েছে মাত্র ৩৭ সেকেন্ড। এটা কি বিচার? এটা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”
তারেক রহমান বলেন, “জামায়াতিরা এখন বলছে, তাদের যোগ্যতা আছে, তাই তারা বিচারালয় দখল করেছে। কিন্তু আমি বলছি—আইজিপি মামুন কত টাকা দিয়েছে জামায়াতকে, তা এখন সময়ের দাবি। এই ষড়যন্ত্রের জাল যতদিন উন্মোচিত না হবে, ততদিন প্রকৃত বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আদালতের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। “যে আদালত সত্য গোপন করে রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করে, সেই আদালতের রায় কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না,” বলেন তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুলাই মাসের তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থান ও আইজিপি মামুনকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী আলোচনা চললেও তারেক রহমানের এই মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।





















