১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটপাত কার?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০২৫ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ফুটপাত। এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু আজ সেই অধিকারই যেন প্রশ্নবিদ্ধ। ফুটপাতের উপর থেকে পথচারীদের সরে গিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে — যেন তারা নিজের শহরে নিজেই পরবাসী।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত একই চিত্র: ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে হকার, অবৈধ দোকান, রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার কিংবা অবৈধ যানবাহনের দ্বারা। জনসাধারণের চলাচলের এই স্পেস আজ পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতীক।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের শহরের অধিকাংশ ফুটপাত আজ পথচারীদের জন্য নয়, বরং যারা বেশি ‘প্রভাবশালী’, তাদের দখলে। দিনে দিনে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়ে চলেছে ফুটপাত দখলের প্রবণতা। ফলে মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, দুর্ঘটনার হার বাড়ছে, এবং সড়কে প্রাণহানি এখন নিত্যদিনের সংবাদ।

সরকার ও সিটি কর্পোরেশন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও সেগুলো স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কারণ এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বৃত্তায়ন।

আমরা ভুলে যেতে পারি না — হকারদের জীবন ও জীবিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে পথচারীর জীবন তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা যদি হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করি, তাহলে এই সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় হকার জোন তৈরি করা, মার্কেট নির্মাণ, কিংবা ভ্রাম্যমাণ দোকানের লাইসেন্স প্রদান হতে পারে একটি কার্যকর উদ্যোগ।

এখন সময় এসেছে সমন্বিত ও টেকসই সিদ্ধান্ত নেবার। এজন্য আমি আহ্বান জানাই — সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের,এবং নাগরিক সমাজ ও মিডিয়াকে —

সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের নগর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পথচারীদের হাতে ফুটপাত ফিরিয়ে দিতে হবে।

এই সংকট সমাধানে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদের মাঝেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক — সবাইকে সামনে আসতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই দখলদারিত্বের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

ফুটপাত শুধুমাত্র হাঁটার রাস্তা নয় — এটি একটি নগর সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। কোনো উন্নত দেশের শহরে যান, দেখবেন ফুটপাত কেমন পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পথচারীবান্ধব। আমরা কেন তা পারবো না?

চলুন, সবাই মিলে আওয়াজ তুলি “ফুটপাত দখলমুক্ত করো, পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো!”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

ফুটপাত কার?

Update Time : ০৬:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ফুটপাত। এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু আজ সেই অধিকারই যেন প্রশ্নবিদ্ধ। ফুটপাতের উপর থেকে পথচারীদের সরে গিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে — যেন তারা নিজের শহরে নিজেই পরবাসী।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত একই চিত্র: ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে হকার, অবৈধ দোকান, রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার কিংবা অবৈধ যানবাহনের দ্বারা। জনসাধারণের চলাচলের এই স্পেস আজ পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতীক।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের শহরের অধিকাংশ ফুটপাত আজ পথচারীদের জন্য নয়, বরং যারা বেশি ‘প্রভাবশালী’, তাদের দখলে। দিনে দিনে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়ে চলেছে ফুটপাত দখলের প্রবণতা। ফলে মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, দুর্ঘটনার হার বাড়ছে, এবং সড়কে প্রাণহানি এখন নিত্যদিনের সংবাদ।

সরকার ও সিটি কর্পোরেশন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও সেগুলো স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কারণ এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বৃত্তায়ন।

আমরা ভুলে যেতে পারি না — হকারদের জীবন ও জীবিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে পথচারীর জীবন তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা যদি হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করি, তাহলে এই সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় হকার জোন তৈরি করা, মার্কেট নির্মাণ, কিংবা ভ্রাম্যমাণ দোকানের লাইসেন্স প্রদান হতে পারে একটি কার্যকর উদ্যোগ।

এখন সময় এসেছে সমন্বিত ও টেকসই সিদ্ধান্ত নেবার। এজন্য আমি আহ্বান জানাই — সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের,এবং নাগরিক সমাজ ও মিডিয়াকে —

সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের নগর ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পথচারীদের হাতে ফুটপাত ফিরিয়ে দিতে হবে।

এই সংকট সমাধানে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদের মাঝেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক — সবাইকে সামনে আসতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই দখলদারিত্বের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

ফুটপাত শুধুমাত্র হাঁটার রাস্তা নয় — এটি একটি নগর সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। কোনো উন্নত দেশের শহরে যান, দেখবেন ফুটপাত কেমন পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পথচারীবান্ধব। আমরা কেন তা পারবো না?

চলুন, সবাই মিলে আওয়াজ তুলি “ফুটপাত দখলমুক্ত করো, পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো!”