
কক্সবাজার প্রতিনিধি: ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা — বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ শেয়ার করার অভিযোগ ঘিরেই সেই হামলার সূত্রপাত। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন রামুর যুবক উত্তম কুমার বড়ুয়া।
দীর্ঘ ১৩ বছর ১৩ দিন ফেরারি জীবন কাটানোর পর অবশেষে তিনি সপরিবারে ফ্রান্সে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উত্তম কুমার বড়ুয়ার সন্ধান মিলল অবশেষে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার শুরুতে ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেই পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগ ওঠে উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। অথচ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তিনি সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবুও তার পরিবারসহ পুরো বৌদ্ধ সম্প্রদায় চরম ভুক্তভোগী হয়। রামুর একের পর এক বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হয়।
তারপর থেকেই উত্তমের খোঁজ মিলছিলো না। দেশে থেকে উত্তমের স্ত্রী রিতা বড়ুয়া তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে সীমাহীন কষ্টে লড়ে গেছেন। সামাজিক লাঞ্ছনা, দারিদ্র্য ও নিঃসঙ্গতা সইতে সইতে তিনি বড় করেছেন সন্তানকে। সেই ছোট্ট আদিত্য এখন বড় হয়ে এসএসসি পাস করেছে কৃতিত্বের সঙ্গে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ফ্রান্সে একত্রিত হয়ে নতুন জীবনের সূচনা করলেন উত্তম বড়ুয়া ও তার পরিবার। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ শুভানুধ্যায়ীরা এ ঘটনাকে মানবতার জয় হিসেবে দেখছেন।
২/
কক্সবাজার আদালতে ঘটেছে চুরি
কক্সবাজার প্রতিনিধি।
কক্সবাজার আদালতে নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের খাস কামরা (চেম্বার) থেকে তাঁর দুটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়েছে।
এই ঘটনায় বিচারকের পক্ষে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচারক আদালত পরিচালনার সময় খাস খামরায় রাখা ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন অজ্ঞাত চোর চুরি করে নিয়েছে। এছাড়া মানিব্যাগের মধ্যে থাকা এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিচারকের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্রও হাতিয়ে নিয়েছে।
চুরি হওয়া মোবাইলের মধ্যে একটি আইফোন ১৪, অপরটি ভিভো-১২। চুরিকৃত মোবাইলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আদালত চলাকালীন সময়ে বিচারক নিয়মিতভাবে মোবাইল ও মানিব্যাগ খাস খামরায় রাখেন। রোববারও একই নিয়ম অনুসরণ করেছিলেন। স্যার যখন এজলাসে ওঠেন, সেই সময় সুযোগ নিয়ে কৌশলে অজ্ঞাত চোর খাস খামরায় প্রবেশ করে দুটি মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা।”
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মোঃ ফারুখ হোসেন জানান, “জজ স্যারের মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনায় মামলার রুজু করা হয়েছে। চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
৩/
কক্সবাজার বিমানবন্দর এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
কক্সবাজার প্রতিনিধি।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এর সিএ-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব আহমেদ জামিল স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, Sub-rule (1) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার The Civil Aviation Rules, 1984 এ Rule 16 কক্সবাজার বিমানবন্দরকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করিল।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




















