০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোহানেসবার্গে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি, নোয়াখালীতে শোকের মাতম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০৪০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নোয়াখালীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারা এলাকায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবু নাছের শামীম (৫০) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী গ্রামের গনু সারেং বাড়ির মৃত আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু নাছের শামীম ২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। দীর্ঘদিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সেখানে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। চার বছর আগে দেশে ফিরে এলেও পরবর্তীতে আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার ৪ থেকে ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বলে জানা গেছে।

নিহতের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস জানান, সম্প্রতি একটি বড় দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে তার বাবার সঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ তৈরি হয়। দোকানটির আকার বড় হওয়ায় উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার বাবা দোকানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন করেন এবং একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেন।

ঘটনার দিন বিকেলে দোকানের সামনে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালীর নিজ গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নিহতের পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে ডিসি’র সাথে যুবদল সেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জোহানেসবার্গে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি, নোয়াখালীতে শোকের মাতম

Update Time : ১০:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নোয়াখালীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারা এলাকায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবু নাছের শামীম (৫০) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী গ্রামের গনু সারেং বাড়ির মৃত আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু নাছের শামীম ২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। দীর্ঘদিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সেখানে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। চার বছর আগে দেশে ফিরে এলেও পরবর্তীতে আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার ৪ থেকে ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বলে জানা গেছে।

নিহতের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস জানান, সম্প্রতি একটি বড় দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে তার বাবার সঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ তৈরি হয়। দোকানটির আকার বড় হওয়ায় উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার বাবা দোকানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন করেন এবং একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেন।

ঘটনার দিন বিকেলে দোকানের সামনে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালীর নিজ গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নিহতের পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।