
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
জামায়াত-e-ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার বক্তব্যের সমালোচনা থামার আগেই তিনি ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
প্রচারিত ভিডিওতে শাহজাহান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়—“আল্লাহর ওয়াস্তে বাড়াবাড়ি করিয়েন না। আমার নাম শাহজাহান চৌধুরী। আমি শুনতেছি, অনেকে নাকি উল্টাপাল্টা বলতেছে; খবরদার খবরদার খবরদার… আমাকে যারা চেনেনি তারা এখনও মাটির নিচে বসবাস করে। আমি চোখ তুলে দেখতেছি, আমার জন্য আল্লাহ আছে। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার জন্য সূর্য দাঁড়িয়ে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এ রকম মর্যাদা দিয়েছেন।”
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা–সমালোচনা। অনেকে বলছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হুমকিমূলক শৈলী গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবার কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘অতিরঞ্জিত আত্মপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকায় গত ১৩ নভেম্বর গণসংযোগের সময় শাহজাহান চৌধুরী এই বক্তব্য দেন। তবে ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রচারিত ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়—“উল্টাপাল্টা করিও না। অবশ হয়ে যাবে। আমি যদি চোখের পানি ফেলি, অবশ হয়ে যাবে। আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। ১৮ বছরের মধ্যে ৯ বছর জেল খেটেছি। আমি টাকাপয়সা চাই নাই, ধনদৌলত চাই নাই, পরিবারকে চাইনি। আমি আপনাদের দুয়ারে আজকে এসেছি।”
তার এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কেউ বলছেন এটি এক ধরনের ‘আধ্যাত্মিক আত্মশক্তির দাবি’, আবার কেউ এটিকে স্পষ্ট রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শন বলে উল্লেখ করছেন।
কয়েকদিন আগেই প্রশাসনকে ‘আয়ত্ত্বে আনা হবে’— এমন মন্তব্য করে শাহজাহান চৌধুরী ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই বিতর্ক থামার আগেই নতুন মন্তব্যে তিনি আবারও আলোচনায়।অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রে একজন নেতার এ ধরনের মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য? কেউ কেউ বলছেন— এটি সাধারণ মানুষের মাঝে ভয় সৃষ্টি করতে পারে।সমর্থকরা অবশ্য যুক্তি দিচ্ছেন— বক্তব্যটি ‘ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে’।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলছেন— নির্বাচনী মাঠে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এমন বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের শামিল।





















