
রংপুর ব্যুরোঃ
প্রথমে বিয়ের প্রলোভন পরে জোড় পূর্বক ধর্ষণ। গোপনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ। পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে রংপুর শহরের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ। এখানেই শেষ নয় ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা আদায় করেছে গৃহবধূর কাছ থেকে। অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানাধীন এলাকায়।
গৃহবধূর দায়ের করা এজাহার সুত্রে জানা যায়, এক সন্তানের জনক প্রতিবেশী দেবর আরিফুল ইসলাম
বিগত ৯/১০ মাস পূর্বে প্রথমে ওই গৃহবধুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে গৃহবধু রাজি না হওয়ায় গত ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই পরিবার ও স্বামীর অজান্তে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। এরপর থেকে ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে রংপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একাধিকবার যেতে বাধ্যসহ একাধিকবার ধর্ষণ করে আসছিল আরিফুল। এক সন্তানের জননী গৃহবধু সংসার নষ্ট হওয়াসহ লোকলজ্জার ভয়ে তার কথা মতো চলতে থাকে।
এরই একপর্যায়ে ধর্ষক আরিফুল ইসলাম চলতি মার্চ মাসের ২ অথবা ৩ তারিখ রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে গৃহবধুর স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঘরে প্রবেশ করে বর্নিত ভিডিওটি ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। এজাহার সুত্রে জানা যায়, অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গৃহবধুর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও দাবি করে। ভয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে কিছু টাকা পয়সাও দিয়েছে ওই গৃহবধু। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকার করলে উল্লেখিত ভিডিওটি গত ১২ মার্চ ২০২৬ ARIFUL ISLAM ARIF এর নিজ ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি দেখে গৃহবধু তার পরিবারের লোকজন ও তার স্বামীকে জানায়। এ বিষয়ে গৃহবধুর স্বামী এরশাদুল হক আরিফুলের সাথে কথা বলতে গেলে তাকেও বিভিন্ন প্রকার ভয় ও হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য তার স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আরিফুল।
এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন, ওই গৃহবধূর দায়েরকৃত এজাহারের
প্রেক্ষিতে হারাগাছ থানায় ধারা: ৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ তৎসহ ৮ (১)/৮ (২)/৮(৩) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২।রুজু হয়েছে। যার মামলা নাম্বার-১০ তারিখ ১৭/৩/২৬।
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ রাতে অভিযুক্ত আরিফুলকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। গৃহবধূকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) এ পাঠানো হয়েছে। ধৃত আরিফুল ইসলাম (২৮) রংপুর মহানগর হারাগাছ থানার অন্তর্ভুক্ত বেনুঘাট ধনীটারী গ্রামের মোফাজ্জল ইসলামের ছেলে। তবে এ বিষয়ে আরিফুলের বড় ভাই রানা জানান, ওই গৃহবধূ আমাদের প্রতিবেশী ভাবি সম্পর্কের সুবাদে তার সাথে আমার ভাইয়ের ভালো খাতির ছিল একসময় এটা গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। সে নিজে থেকে আরিফুলের সাথে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতো। এর আগে ওদের দুইজনের একটি আপত্তিকর ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে এলাকায় দুই পরিবারের মধ্যে সালিশি বৈঠকও হয়েছে।





















