
উখিয়া প্রতিনিধি: রেজাউল করিম: খেওয়াছড়ির এক কৃতী সন্তানের জীবনে আজ এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হলো। বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদ থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই-নি:) পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়ায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের এই আনন্দঘন দিনে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নবনিযুক্ত এএসআই। তিনি বলেন, “আজ বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমি যখন হতাশ হতাম, বাবা আমাকে সাহস দিতেন—একদিন তুই প্রমোশন পাবি, একদিন পুলিশ অফিসার হবি। আজ সেই দিন এসেছে, কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।” স্মৃতিচারণে তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে গভীর বেদনা ও কৃতজ্ঞতা।
এ সাফল্যের পেছনে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য—তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষভাবে তিনি তাঁর মা জননীর ত্যাগ, কষ্ট ও দোয়ার কথা স্মরণ করেন। দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকা সহধর্মিণীর মানসিক সমর্থন, ধৈর্য ও ত্যাগের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ীর অবিরাম দোয়া ও অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও স্নেহপূর্ণ সহযোগিতা তাঁকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে বোনেরা, বন্ধু, বড় ভাই ও ছোট ভাইসহ যাঁরা তাঁর সংগ্রামের কথা জানতেন এবং নিয়মিত সাহস ও দোয়া দিয়েছেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনিযুক্ত এএসআই বলেন, “সবাই দোয়া করবেন—আমি যেন আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও ন্যায়বোধের সঙ্গে পালন করতে পারি। দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন এই পদোন্নতিকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কবুল করেন।
খেওয়াছড়ির এই সন্তানের সাফল্যে এলাকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।




















