০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছরের লড়াই: সাহাব উদ্দিনের দেহে পচন, পাশে নেই কেউ”

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৬৭ বার পঠিত হয়েছে

মো.রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালালী প্রতিনিধি”

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর গ্রামের
ছৈয়দ আলী পাটোয়ারী বাড়ির মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন (৪৫),
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এক ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মতো কষ্ট সহ্য করছেন।

প্রায় দুই দশক আগে কৃষিকাজ করার সময় এক সামান্য কাছির আঘাত থেকে শুরু হয় তার শারীরিক দুর্ভোগ।
সেই ছোট্ট ক্ষত ধীরে ধীরে পচে গিয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আজ তার দেহের বহু স্থানে পোকার বাসা।
অসহনীয় দুর্গন্ধ ও ব্যথায় দিনরাত ছটফট করছেন তিনি।

পরিবারের আট ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র সাহাব উদ্দিনই এই রোগে আক্রান্ত। স্বামীর এ দুর্দশা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী আমেনা বেগম নিজের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে বাবার বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে তিনি দিনমজুরির কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২২ বছর ধরে সাহাব উদ্দিনকে কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি।
সমাজের অনেকে তার কাছে যেতেও ভয় পান দুর্গন্ধের কারণে।
তাদের দাবি—যদি রাষ্ট্র বা কোনো মানবিক সংগঠন উদ্যোগ নেয়, তবে অন্তত জীবনের অবশিষ্ট সময়ে সাহাব উদ্দিন কিছুটা শান্তি ও সুচিকিৎসা পেতে পারেন।

একটি সামান্য ক্ষত থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ আজ এক ব্যক্তির জীবনে পরিণত হয়েছে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে।
২২ বছরের লড়াইয়ে সাহাব উদ্দিনের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ—এ যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের এক অমানবিক ব্যর্থতার গল্প।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

২২ বছরের লড়াই: সাহাব উদ্দিনের দেহে পচন, পাশে নেই কেউ”

Update Time : ০৭:৩৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মো.রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালালী প্রতিনিধি”

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর গ্রামের
ছৈয়দ আলী পাটোয়ারী বাড়ির মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন (৪৫),
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এক ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মতো কষ্ট সহ্য করছেন।

প্রায় দুই দশক আগে কৃষিকাজ করার সময় এক সামান্য কাছির আঘাত থেকে শুরু হয় তার শারীরিক দুর্ভোগ।
সেই ছোট্ট ক্ষত ধীরে ধীরে পচে গিয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আজ তার দেহের বহু স্থানে পোকার বাসা।
অসহনীয় দুর্গন্ধ ও ব্যথায় দিনরাত ছটফট করছেন তিনি।

পরিবারের আট ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র সাহাব উদ্দিনই এই রোগে আক্রান্ত। স্বামীর এ দুর্দশা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী আমেনা বেগম নিজের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে বাবার বাড়ি ফিরে যান। বর্তমানে তিনি দিনমজুরির কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২২ বছর ধরে সাহাব উদ্দিনকে কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি।
সমাজের অনেকে তার কাছে যেতেও ভয় পান দুর্গন্ধের কারণে।
তাদের দাবি—যদি রাষ্ট্র বা কোনো মানবিক সংগঠন উদ্যোগ নেয়, তবে অন্তত জীবনের অবশিষ্ট সময়ে সাহাব উদ্দিন কিছুটা শান্তি ও সুচিকিৎসা পেতে পারেন।

একটি সামান্য ক্ষত থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ আজ এক ব্যক্তির জীবনে পরিণত হয়েছে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে।
২২ বছরের লড়াইয়ে সাহাব উদ্দিনের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ—এ যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের এক অমানবিক ব্যর্থতার গল্প।