১০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল: প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩০৯৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫:
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।”

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, অবদান এবং জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসব বিবেচনায় চলতি মাসেই সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান বাংলাদেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল সর্বদা পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।

প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের টানা ৯ বছরের দুঃশাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করার উদ্যোগ বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি বিজয় লাভ করেন।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং যার যার অবস্থান থেকে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান।

মহান আল্লাহ তায়ালা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল: প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক

Update Time : ০৯:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫:
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।”

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, অবদান এবং জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসব বিবেচনায় চলতি মাসেই সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান বাংলাদেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল সর্বদা পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।

প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের টানা ৯ বছরের দুঃশাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করার উদ্যোগ বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি বিজয় লাভ করেন।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং যার যার অবস্থান থেকে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান।

মহান আল্লাহ তায়ালা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।