০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের ব্যস্ততায় মাদকবিরোধী অভিযানে ঢিল, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কারবারিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৬১ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে দৃশ্যমান শিথিলতা দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে দেশের ভেতরে মাদকের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জল, স্থল ও আকাশপথ—সব মাধ্যমেই মাদক ঢুকছে দেশে। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইসসহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের মাত্র ১০ শতাংশ আটক করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি অংশ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের গভীরে। কৌতূহল, বেকারত্ব, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা ও অসৎ সঙ্গের কারণে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে।

বেসরকারি সংস্থা মানস-এর হিসেবে দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ মাদকাসক্ত। বছরে মাদক কেনাবেচায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ চক্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ দাবি করেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাদকবিরোধী অবস্থান আরও জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা আরও সংগঠিতভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তদন্ত ছাড়া সাংবাদিক গ্রেফতার নয়: বিএমএসএফ চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর

নির্বাচনের ব্যস্ততায় মাদকবিরোধী অভিযানে ঢিল, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কারবারিরা

Update Time : ১০:২০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে দৃশ্যমান শিথিলতা দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে দেশের ভেতরে মাদকের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জল, স্থল ও আকাশপথ—সব মাধ্যমেই মাদক ঢুকছে দেশে। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইসসহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রবেশ করা মোট মাদকের মাত্র ১০ শতাংশ আটক করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি অংশ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের গভীরে। কৌতূহল, বেকারত্ব, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা ও অসৎ সঙ্গের কারণে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে।

বেসরকারি সংস্থা মানস-এর হিসেবে দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ মাদকাসক্ত। বছরে মাদক কেনাবেচায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ চক্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ দাবি করেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাদকবিরোধী অবস্থান আরও জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা আরও সংগঠিতভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন