০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ: প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ, এআই ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৩৩ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুনভাবে জারি করা হলো নির্বাচন কমিশনের ‘আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’। এই বিধিমালায় প্রথমবারের মতো সব প্রার্থীর জন্য একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে গেজেট আকারে প্রকাশিত এই বিধিমালাটি তৈরি করা হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে। এতে ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নিয়ম সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের প্রচারণায় এবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার ব্যবহার।
এর পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার ও বিদেশে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ রোধ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোনো প্রার্থী তার পক্ষে ২০টির বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক, ভুয়া বা বিকৃত প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসি স্পষ্ট করেছে, কোনো দল বা প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে অসম্মানিত করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
এর মাধ্যমে প্রার্থীরা আইনি ও নৈতিকভাবে নিজেদের নির্বাচনী দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।কোনো প্রার্থী বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।গুরুতর লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে।

ইসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচনকে স্বচ্ছ, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা বিবেচনায় এবার ডিজিটাল প্রচারণায়ও নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টার নিষিদ্ধকরণ ও একক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন গেজেট, ১০ নভেম্বর ২০২৫

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তদন্ত ছাড়া সাংবাদিক গ্রেফতার নয়: বিএমএসএফ চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর

নির্বাচনী আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ: প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ, এআই ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

Update Time : ১১:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুনভাবে জারি করা হলো নির্বাচন কমিশনের ‘আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’। এই বিধিমালায় প্রথমবারের মতো সব প্রার্থীর জন্য একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে গেজেট আকারে প্রকাশিত এই বিধিমালাটি তৈরি করা হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে। এতে ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নিয়ম সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের প্রচারণায় এবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার ব্যবহার।
এর পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার ও বিদেশে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ রোধ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোনো প্রার্থী তার পক্ষে ২০টির বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক, ভুয়া বা বিকৃত প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসি স্পষ্ট করেছে, কোনো দল বা প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে অসম্মানিত করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
এর মাধ্যমে প্রার্থীরা আইনি ও নৈতিকভাবে নিজেদের নির্বাচনী দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।কোনো প্রার্থী বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।গুরুতর লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে।

ইসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচনকে স্বচ্ছ, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা বিবেচনায় এবার ডিজিটাল প্রচারণায়ও নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টার নিষিদ্ধকরণ ও একক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন গেজেট, ১০ নভেম্বর ২০২৫