০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারেন জাইমা রহমান ও মাহদী আমিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৫২ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসতে যাচ্ছে দলটি। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিমিত আকারের পরিষদ। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করা হবে। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নেতাদেরও মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে এবং দল সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, শিগগিরই সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে এবং তার পরপরই মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে জয়লাভ করে দলের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেতে পারেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। একইভাবে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও বিশেষ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জোট শরিকদের মধ্যেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেও কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এবার একটি কর্মমুখী, সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করে দ্রুত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে হাত দিতে চাইবে।

নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন। এখন দেশবাসীর দৃষ্টি—কারা পাচ্ছেন মন্ত্রিসভায় জায়গা এবং কীভাবে শুরু হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তদন্ত ছাড়া সাংবাদিক গ্রেফতার নয়: বিএমএসএফ চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর

নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারেন জাইমা রহমান ও মাহদী আমিন

Update Time : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসতে যাচ্ছে দলটি। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিমিত আকারের পরিষদ। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করা হবে। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়া কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নেতাদেরও মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে এবং দল সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, শিগগিরই সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে এবং তার পরপরই মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে জয়লাভ করে দলের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যেতে পারেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। একইভাবে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও বিশেষ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জোট শরিকদের মধ্যেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেও কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এবার একটি কর্মমুখী, সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করে দ্রুত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে হাত দিতে চাইবে।

নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন। এখন দেশবাসীর দৃষ্টি—কারা পাচ্ছেন মন্ত্রিসভায় জায়গা এবং কীভাবে শুরু হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।