১০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে হামলা: রাজধানীতে ব্যবসায়ী–চাঁদাবাজ সংঘর্ষ, আতঙ্কে জনজীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩১২১ বার পঠিত হয়েছে
মোঃ শাহজাহান বাশার 

রাজধানী ঢাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধনে নামা ব্যবসায়ীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ করে হামলা চালানোয় ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে চাঁদাবাজ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও জুলুমের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ, নিরাপদ ব্যবসা পরিবেশ এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। কিন্তু মানববন্ধন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে গালাগাল, হুমকি ও মারধর শুরু করে।

হামলার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও আশপাশের দোকানিরা নিরাপত্তার জন্য দোকানপাট বন্ধ করে সরে যান। কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদা না দিলে দোকান ভাঙচুর, মারধর এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও হামলা প্রমাণ করে—চাঁদাবাজরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই আমাদের ওপর আরেক অন্যায় নেমে আসে। তাহলে আমরা কোন দেশে জন্ম নিয়েছি? এখানে কি প্রতিবাদ করাও অপরাধ?”

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলার পরপরই অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, রাজধানীতে চাঁদাবাজি এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেও যদি নিরাপত্তা না মেলে, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সচেতন মহল বলছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনার পর প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে হামলা: রাজধানীতে ব্যবসায়ী–চাঁদাবাজ সংঘর্ষ, আতঙ্কে জনজীবন

Update Time : ০৪:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
মোঃ শাহজাহান বাশার 

রাজধানী ঢাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধনে নামা ব্যবসায়ীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ করে হামলা চালানোয় ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে চাঁদাবাজ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট এলাকার দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও জুলুমের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ, নিরাপদ ব্যবসা পরিবেশ এবং প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। কিন্তু মানববন্ধন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে গালাগাল, হুমকি ও মারধর শুরু করে।

হামলার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী ও আশপাশের দোকানিরা নিরাপত্তার জন্য দোকানপাট বন্ধ করে সরে যান। কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদা না দিলে দোকান ভাঙচুর, মারধর এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও হামলা প্রমাণ করে—চাঁদাবাজরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই আমাদের ওপর আরেক অন্যায় নেমে আসে। তাহলে আমরা কোন দেশে জন্ম নিয়েছি? এখানে কি প্রতিবাদ করাও অপরাধ?”

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলার পরপরই অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, রাজধানীতে চাঁদাবাজি এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলেও যদি নিরাপত্তা না মেলে, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সচেতন মহল বলছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনার পর প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়।