০৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার গোমতী তীরের নটীর মসজিদ সংরক্ষণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রবাসী দানবীর মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৯৬ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন শতাব্দীর পুরোনো এক রহস্যময় নিদর্শন—নটীর মসজিদ। ইতিহাস, লোককথা আর করুণ স্মৃতির বাহক এই স্থাপনাটি আজ ভগ্নদশায় পড়ে আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একাধিকবার একে সংরক্ষণের যোগ্য ঘোষণা করলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে মসজিদটির অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা প্রবাসী, কুমিল্লার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কুমিল্লা সোসাইটি ও নর্থ আমেরিকার সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণপাড়া মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি নটীর মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের জোর দাবি তুলেছেন।

তিনি বলেন,
“নটীর মসজিদ কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে হলে অবিলম্বে এর সংরক্ষণ জরুরি। জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অনুরোধ করছি, দ্রুত সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করুন।”
জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজার দরবার কাঁপানো শ্রেষ্ঠ বাইজি নূরজাহান এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে প্রথম নামাজ আদায় ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে আর কখনো আজান বা জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। অপমান সহ্য করতে না পেরে নূরজাহানের করুণ আত্মত্যাগের কাহিনি আজও স্থানীয় লোককথায় প্রচলিত। শতাব্দী পেরিয়ে এখন মসজিদটি বটগাছের শেকড়ে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর এই উদ্যোগে ইতোমধ্যেই কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষাবিদরা সমর্থন জানিয়েছেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন—কলামিস্ট হাসান ইমাম মজুমদার, সাংবাদিক এনামুল হক ফারুক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহজাহান চৌধুরী, সাংবাদিক মহিউদ্দিন মোল্লা, দৈনিক রুপসী বাংলার সম্পাদক তরুণ, আবুল কালাম আজাদ (সম্পাদক, কুমিল্লার কাগজ), সাংবাদিক ও কলামিস্ট ইয়াসমিন রিমা , জাকির আজাদ, শাহজাদা এমরান, সৈয়দ আহমেদ লাভলু, গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির।

এছাড়া, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ও গীতিকার আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, কুমিল্লা প্রতিদিন সম্পাদক মোঃ সুমন শরীফ, সাংবাদিক মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা একযোগে নটীর মসজিদ রক্ষায় আহ্বান জানিয়েছেন।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, সুশীল মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একযোগে এ ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশে দাঁড়াবেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এখনই উদ্যোগ নেওয়া গেলে নটীর মসজিদ শুধু স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

নাগরিক সমাজ, সুশীল মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান—চলুন সকলে মিলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিকট দাবি জানাই, যাতে দ্রুত নটীর মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

কুমিল্লার গোমতী তীরের নটীর মসজিদ সংরক্ষণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রবাসী দানবীর মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী

Update Time : ১২:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন শতাব্দীর পুরোনো এক রহস্যময় নিদর্শন—নটীর মসজিদ। ইতিহাস, লোককথা আর করুণ স্মৃতির বাহক এই স্থাপনাটি আজ ভগ্নদশায় পড়ে আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একাধিকবার একে সংরক্ষণের যোগ্য ঘোষণা করলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে মসজিদটির অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা প্রবাসী, কুমিল্লার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কুমিল্লা সোসাইটি ও নর্থ আমেরিকার সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণপাড়া মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি নটীর মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের জোর দাবি তুলেছেন।

তিনি বলেন,
“নটীর মসজিদ কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে হলে অবিলম্বে এর সংরক্ষণ জরুরি। জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে অনুরোধ করছি, দ্রুত সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করুন।”
জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজার দরবার কাঁপানো শ্রেষ্ঠ বাইজি নূরজাহান এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে প্রথম নামাজ আদায় ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে আর কখনো আজান বা জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। অপমান সহ্য করতে না পেরে নূরজাহানের করুণ আত্মত্যাগের কাহিনি আজও স্থানীয় লোককথায় প্রচলিত। শতাব্দী পেরিয়ে এখন মসজিদটি বটগাছের শেকড়ে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর এই উদ্যোগে ইতোমধ্যেই কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষাবিদরা সমর্থন জানিয়েছেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন—কলামিস্ট হাসান ইমাম মজুমদার, সাংবাদিক এনামুল হক ফারুক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহজাহান চৌধুরী, সাংবাদিক মহিউদ্দিন মোল্লা, দৈনিক রুপসী বাংলার সম্পাদক তরুণ, আবুল কালাম আজাদ (সম্পাদক, কুমিল্লার কাগজ), সাংবাদিক ও কলামিস্ট ইয়াসমিন রিমা , জাকির আজাদ, শাহজাদা এমরান, সৈয়দ আহমেদ লাভলু, গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির।

এছাড়া, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ও গীতিকার আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, কুমিল্লা প্রতিদিন সম্পাদক মোঃ সুমন শরীফ, সাংবাদিক মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা একযোগে নটীর মসজিদ রক্ষায় আহ্বান জানিয়েছেন।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, সুশীল মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একযোগে এ ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশে দাঁড়াবেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এখনই উদ্যোগ নেওয়া গেলে নটীর মসজিদ শুধু স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাবে।

নাগরিক সমাজ, সুশীল মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান—চলুন সকলে মিলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিকট দাবি জানাই, যাতে দ্রুত নটীর মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।