১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধিপত্যের লড়াই সাভারে রক্তাক্ত রূপ নিলো, আহত ৬

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৫৬ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শান্ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ ইমরান হোসেন (২৪), পিতা- মোঃ শাহীন, সাং- হেমায়েতপুর, বড় মসজিদের পাশে থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদী মোঃ রাজ্জাক (২৭), নাঈম (৩০), আমজাদ (৪৪), মোঃ মেহেদী (২৮), মোঃ ফারুক (৩৪), আরাফাত (১৯), সিফাত (২৪), বাহারুল (৪৭) এবং আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তারা সকলেই সাভারের হেমায়েতপুর দক্ষিণ শ্যামপুর গোয়ালপাড়া তালতলা এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযোগকারী ইমরান হোসেন তার খালাতো ভাই সাব্বির (২২) ও শাওন (২২)-কে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণ শ্যামপুর গোয়ালপাড়া এলাকার তালতলা তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে বিবাদীরা তাদের পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক একটি গ্যারেজে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করে।

সংবাদ পেয়ে ইমরানের খালাতো বন্ধু ফাহাদ, মাওলা ও সেলিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিবাদীরা তাদেরও মারধর করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজ্জাক হাতে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে ফাহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। নাঈম ধারালো চাকু দিয়ে শাওনের পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একইভাবে আরাফাত চাকু দিয়ে সাব্বিরকে আহত করে। এছাড়া আমজাদ, মেহেদী, ফারুক, সিফাত ও বাহারুল লাঠি-সোটা দিয়ে মাওলা ও সেলিমকে বেধড়ক পেটায়। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা ডাক-চিৎকার করলে হামলাকারীরা তাদের মোটরসাইকেল আটকে রেখে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত সাব্বির ও শাওনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইমরান, ফাহাদ, মাওলা ও সেলিম স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

অভিযোগকারী ইমরান হোসেন জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা বিলম্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

আধিপত্যের লড়াই সাভারে রক্তাক্ত রূপ নিলো, আহত ৬

Update Time : ০৭:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শান্ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি

ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ ইমরান হোসেন (২৪), পিতা- মোঃ শাহীন, সাং- হেমায়েতপুর, বড় মসজিদের পাশে থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদী মোঃ রাজ্জাক (২৭), নাঈম (৩০), আমজাদ (৪৪), মোঃ মেহেদী (২৮), মোঃ ফারুক (৩৪), আরাফাত (১৯), সিফাত (২৪), বাহারুল (৪৭) এবং আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তারা সকলেই সাভারের হেমায়েতপুর দক্ষিণ শ্যামপুর গোয়ালপাড়া তালতলা এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযোগকারী ইমরান হোসেন তার খালাতো ভাই সাব্বির (২২) ও শাওন (২২)-কে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে দক্ষিণ শ্যামপুর গোয়ালপাড়া এলাকার তালতলা তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে বিবাদীরা তাদের পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক একটি গ্যারেজে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করে।

সংবাদ পেয়ে ইমরানের খালাতো বন্ধু ফাহাদ, মাওলা ও সেলিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিবাদীরা তাদেরও মারধর করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজ্জাক হাতে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে ফাহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। নাঈম ধারালো চাকু দিয়ে শাওনের পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একইভাবে আরাফাত চাকু দিয়ে সাব্বিরকে আহত করে। এছাড়া আমজাদ, মেহেদী, ফারুক, সিফাত ও বাহারুল লাঠি-সোটা দিয়ে মাওলা ও সেলিমকে বেধড়ক পেটায়। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা ডাক-চিৎকার করলে হামলাকারীরা তাদের মোটরসাইকেল আটকে রেখে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত সাব্বির ও শাওনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইমরান, ফাহাদ, মাওলা ও সেলিম স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

অভিযোগকারী ইমরান হোসেন জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা বিলম্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”