০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অলী-আওলিয়াদের সম্মান রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি অলী-আওলিয়াদের সম্মান রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান — মোঃ শাহজাহান বাশার এর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৩০১১ বার পঠিত হয়েছে

নিউজ ডেস্ক 

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজার-এ যিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, মব সৃষ্টি এবং আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি স্থানের ওপর হামলা নয়; বরং দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অলী-আওলিয়াগণের অবদান অনস্বীকার্য। এই ভূখণ্ডে ইসলাম বিস্তারের ইতিহাস গড়ে উঠেছে মূলত পীর-মাশায়েখ, দরবেশ ও সুফি সাধকদের ত্যাগ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং মানবিক দাওয়াতের মাধ্যমে। তাদের শিক্ষা ছিল ভালোবাসা, শান্তি, সহনশীলতা এবং মানবকল্যাণ। তাই তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত মাজার, খানকাহ ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের প্রতি সম্মান দেখানো সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

মোঃ শাহজাহান বাশার আরও বলেন, “যে দেশের মাটিতে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মতো মহান অলীর স্মৃতি বিদ্যমান, সেই দেশে তাঁর মাজারে হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের উসকানি, বিশৃঙ্খলা এবং মব সৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।

তিনি বলেন, “ইসলাম কখনোই সহিংসতা, ভাঙচুর বা অশান্তিকে সমর্থন করে না। ইসলাম হলো শান্তি, মানবতা ও সহনশীলতার ধর্ম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। তাই ইসলামের নামে কোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।”

মোঃ শাহজাহান বাশার বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু চক্র ইসলামের ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক ধারাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। অথচ এই বাংলায় ইসলামের বিস্তার ঘটেছে তরবারির মাধ্যমে নয়, বরং অলী-আওলিয়াদের দাওয়াত, আখলাক ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, “আজ সময় এসেছে সকল পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। শুধু নিন্দা নয়, বরং বাস্তবভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য মাজার ও ধর্মীয় স্থানে যেকোনো ধরনের হামলা বা মব সৃষ্টির ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো শান্তি ও মানবতা—এই বার্তাই সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

র‍্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অলী-আওলিয়াদের সম্মান রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি অলী-আওলিয়াদের সম্মান রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান — মোঃ শাহজাহান বাশার এর

Update Time : ১১:৪৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৭ মে ২০২৬

নিউজ ডেস্ক 

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজার-এ যিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, মব সৃষ্টি এবং আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি স্থানের ওপর হামলা নয়; বরং দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অলী-আওলিয়াগণের অবদান অনস্বীকার্য। এই ভূখণ্ডে ইসলাম বিস্তারের ইতিহাস গড়ে উঠেছে মূলত পীর-মাশায়েখ, দরবেশ ও সুফি সাধকদের ত্যাগ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং মানবিক দাওয়াতের মাধ্যমে। তাদের শিক্ষা ছিল ভালোবাসা, শান্তি, সহনশীলতা এবং মানবকল্যাণ। তাই তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত মাজার, খানকাহ ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের প্রতি সম্মান দেখানো সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

মোঃ শাহজাহান বাশার আরও বলেন, “যে দেশের মাটিতে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মতো মহান অলীর স্মৃতি বিদ্যমান, সেই দেশে তাঁর মাজারে হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের উসকানি, বিশৃঙ্খলা এবং মব সৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।

তিনি বলেন, “ইসলাম কখনোই সহিংসতা, ভাঙচুর বা অশান্তিকে সমর্থন করে না। ইসলাম হলো শান্তি, মানবতা ও সহনশীলতার ধর্ম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। তাই ইসলামের নামে কোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।”

মোঃ শাহজাহান বাশার বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু চক্র ইসলামের ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক ধারাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। অথচ এই বাংলায় ইসলামের বিস্তার ঘটেছে তরবারির মাধ্যমে নয়, বরং অলী-আওলিয়াদের দাওয়াত, আখলাক ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, “আজ সময় এসেছে সকল পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। শুধু নিন্দা নয়, বরং বাস্তবভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য মাজার ও ধর্মীয় স্থানে যেকোনো ধরনের হামলা বা মব সৃষ্টির ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হলো শান্তি ও মানবতা—এই বার্তাই সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”