০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানহানী ও চরিত্রহনন: সমাজ ধ্বংসের নীরব অস্ত্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও, দুঃখজনকভাবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে মানহানী, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে। সত্যের মোকাবিলা করার সাহস যাদের নেই, তারাই পেছন থেকে কুৎসা রটিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে মানহানী বা চরিত্রহনন হলো কাপুরুষের অস্ত্র। কারণ একজন সৎ ও সাহসী মানুষ কখনো গোপনে ষড়যন্ত্র করে না, বরং সত্য ও যুক্তির মাধ্যমে সামনে এসে কথা বলে।

আজকাল ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য ফেক আইডি তৈরি করে নিরীহ মানুষ, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, প্রতিশোধ গ্রহণ, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করা। এতে শুধু একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং সমাজে অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মানব কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়া সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়ে সিআইডি হেডকোয়ার্টার সাইবার পুলিশ সেন্টারে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কারণ অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যারা ফেক আইডির আড়ালে থেকে মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রযুক্তির এই যুগে সাইবার অপরাধ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, গুজব ছড়ানো এবং চরিত্রহননের মতো অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করা এবং অপপ্রচারে উৎসাহ না দেয়াও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের সফলতা সহ্য করতে পারে না। তারা হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থের বশবর্তী হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সত্যকে কখনো মিথ্যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায় না। অপপ্রচারকারীরা সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সত্যই বিজয়ী হয়।

আমরা প্রত্যাশা করি, প্রশাসন ফেসবুক ফেক আইডি ও চিহ্নিত প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে সমাজের প্রতিটি মানুষকে বুঝতে হবে—কারো সম্মান নষ্ট করা কোনো সাহসিকতা নয়, বরং এটি জঘন্য অপরাধ। যারা মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে ন্যায়বিচারের পথ।

সময় বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি বদলাচ্ছে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের শক্তি কখনো হারিয়ে যায় না। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে একটাই বার্তা—অন্যায় করে কেউ পার পায় না। আজ না হয় কাল, সত্য প্রকাশ হবেই। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মানহানী ও চরিত্রহনন: সমাজ ধ্বংসের নীরব অস্ত্র

মানহানী ও চরিত্রহনন: সমাজ ধ্বংসের নীরব অস্ত্র

Update Time : ০৪:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও, দুঃখজনকভাবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে মানহানী, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে। সত্যের মোকাবিলা করার সাহস যাদের নেই, তারাই পেছন থেকে কুৎসা রটিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে মানহানী বা চরিত্রহনন হলো কাপুরুষের অস্ত্র। কারণ একজন সৎ ও সাহসী মানুষ কখনো গোপনে ষড়যন্ত্র করে না, বরং সত্য ও যুক্তির মাধ্যমে সামনে এসে কথা বলে।

আজকাল ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য ফেক আইডি তৈরি করে নিরীহ মানুষ, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, প্রতিশোধ গ্রহণ, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করা। এতে শুধু একজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং সমাজে অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মানব কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়া সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়ে সিআইডি হেডকোয়ার্টার সাইবার পুলিশ সেন্টারে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কারণ অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যারা ফেক আইডির আড়ালে থেকে মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রযুক্তির এই যুগে সাইবার অপরাধ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, গুজব ছড়ানো এবং চরিত্রহননের মতো অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করা এবং অপপ্রচারে উৎসাহ না দেয়াও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের সফলতা সহ্য করতে পারে না। তারা হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থের বশবর্তী হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, সত্যকে কখনো মিথ্যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায় না। অপপ্রচারকারীরা সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সত্যই বিজয়ী হয়।

আমরা প্রত্যাশা করি, প্রশাসন ফেসবুক ফেক আইডি ও চিহ্নিত প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে সমাজের প্রতিটি মানুষকে বুঝতে হবে—কারো সম্মান নষ্ট করা কোনো সাহসিকতা নয়, বরং এটি জঘন্য অপরাধ। যারা মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে ন্যায়বিচারের পথ।

সময় বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি বদলাচ্ছে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের শক্তি কখনো হারিয়ে যায় না। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে একটাই বার্তা—অন্যায় করে কেউ পার পায় না। আজ না হয় কাল, সত্য প্রকাশ হবেই। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।