
আবুল হোসেন বাবলুঃ
র্যাবের অভিযানে রংপুরের বদরগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার
গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামী গ্রেফতার।
র্যাব-১৩ রংপুর’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ১ জন এবং লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার একটি গণধর্ষণ মামলার ১ জনসহ ২ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত আসামি গোপাল ব্যানার্জী এবং তার সহযোগীরা মিলে গত ৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিম আরিফুল ইসলাম (২৮) রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে বদরগঞ্জ আম্বিয়ার মোড় নামক স্থানে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে আরিফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারপিটের এক পর্যায়ে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আরিফুলকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০৮, তারিখ- ০৬/০৫/২০২৬ ইং, ধারা-১৪৯/ ৩২৩/৩৪১/৩০২/১১৪/৩৪/৫০৬ পেনাল কোড, ১৮৬০।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়া ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
এরই একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-৫ সিপিসি-৩ জয়পুরহাট এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১২ মে রাত সোয়া তিনটার দিকে নওগাঁ জেলার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত শ্যামপুর গ্রামস্থ মৃত বিরেন এর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানাধীন বালুয়াভাটা গ্রামের নন্দ ব্যানার্জীর ছেলে গোপাল ব্যানার্জী (২৫)।
পৃথক অপর একটি অভিযানে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার ১ জন আসামিকে রংপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বাদী এবং ভিকটিমের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামিদের বাড়ি ভিকটিমের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মামলার এজাহারে বর্ণিত প্রধান আসামি বেলাল হোসেন ভিকটিমের পূর্বপরিচিত। ভিকটিম বেলালের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার চাইলে গত ১৯ এপ্রিল বেলাল টাকা নিতে ভিকটিমকে তার বাড়িতে ডাকে।
ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭ টার দিকে টাকা নেওয়ার জন্য বেলালের বাড়িতে যাওয়ার পথে হাতীবান্ধা থানার পারুলিয়া গ্রামের হাছেন আলীর ভুট্টাক্ষেতের কাছাকাছি বেলাল ও তার সহযোগীদের সাথে ভিকটিমের দেখা হয়। এই সুযোগে বেলাল ও তার সহযোগীরা ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে জোর করে ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায়।
ধৃত আসামির স্বীকারোক্তি মতে জানা যায়, ধৃত আসামি রাকিবুল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরলে আসামি বেলাল প্রথমে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। এরপর ধৃত আসামি রাকিবুল এবং অপর আসামি ছাইয়াকুল পালাক্রমে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তারা ভিকটিমকে ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরবর্তীতে, ভিকটিমের পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এ ঘটনায় গত ২২ এপ্রিল ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারায় জোরপূর্বক গণধর্ষণ করার মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-২৭। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলো অভিযুক্তরা।
থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামি গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানীর একটি আভিযানিক দল ১০ মে রাতে রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন দর্শনা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত গণধর্ষণ মামলার ২নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানাধীন উত্তর পারুলিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রকিবুল ইসলাম (৩২)।পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।





















