১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক:)’র ১৬০তম খোশরোজ শরীফে লাখো মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৭৫ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউসুল আযম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৬০তম খোশরোজ শরীফ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে তিনদিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচির মধ্যে ছিল:খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া ও রওজায় গিলাফ ছড়ানো,ফ্রি চিকিৎসা সেবা,ছেমা কাওয়ালী,ওয়াজ-মিলাদ মাহফিল,তবারক বিতরণ তিনদিনব্যাপী আয়োজনে পুরো দরবার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ‘নারায়ে তাকবীর–আল্লাহু আকবার’, ‘নারায়ে রিসালাত–ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)’ ও ‘আল্লাহু আল্লাহু’ ধ্বনিতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মীয় আবেগে উদ্বেল ভক্তরা আধ্যাত্মিক পরিবেশে আত্মনিবেদনে মগ্ন থাকেন।

আজ মঙ্গলবার, খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, হেদায়েত ও শান্তির আকুতি জানিয়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করা হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)। এই সময় লাখো কন্ঠে উচ্চারিত হয় আমীন আমীন ধ্বনী। মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি চেয়ারম্যান হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) বলেন, হাজার বছরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারন করে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এই সম্প্রীতির ভিত্তি রচনা করেছেন আউলিয়ায়ে কেরাম। তাঁরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন। তাসাউফের আলোকে তাঁরা এমন একটি সমাজ গঠন করেছেন, যেখানে হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই—আছে মানবতা, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ। তিনি আরও বলেন, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মাশায়েখগণ তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। যতদিন এ তাসাউফের দর্শন টিকে থাকবে, ততদিন সমাজে শান্তি থাকবে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না। তিনি এই মাহফিলকে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং একটি “আধ্যাত্মিক আন্দোলন” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে আগত লাখো ভক্ত কেবল প্রার্থনায় অংশ নেন না, বরং আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নের অঙ্গীকারে নিজেকে সমর্পণ করেন। এ দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন, যেখানে শুধু ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়। খোশরোজ শরীফ মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুবে মইনুদ্দীন (মা.জি.আ.),সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক এ মইনুদ্দীন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনিয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী। মাহফিল সঞ্চালনা করেন মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক:)’র ১৬০তম খোশরোজ শরীফে লাখো মানুষের ঢল

Update Time : ০৩:৫৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউসুল আযম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৬০তম খোশরোজ শরীফ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে তিনদিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচির মধ্যে ছিল:খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া ও রওজায় গিলাফ ছড়ানো,ফ্রি চিকিৎসা সেবা,ছেমা কাওয়ালী,ওয়াজ-মিলাদ মাহফিল,তবারক বিতরণ তিনদিনব্যাপী আয়োজনে পুরো দরবার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ‘নারায়ে তাকবীর–আল্লাহু আকবার’, ‘নারায়ে রিসালাত–ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)’ ও ‘আল্লাহু আল্লাহু’ ধ্বনিতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মীয় আবেগে উদ্বেল ভক্তরা আধ্যাত্মিক পরিবেশে আত্মনিবেদনে মগ্ন থাকেন।

আজ মঙ্গলবার, খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, হেদায়েত ও শান্তির আকুতি জানিয়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করা হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)। এই সময় লাখো কন্ঠে উচ্চারিত হয় আমীন আমীন ধ্বনী। মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি চেয়ারম্যান হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) বলেন, হাজার বছরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারন করে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এই সম্প্রীতির ভিত্তি রচনা করেছেন আউলিয়ায়ে কেরাম। তাঁরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন। তাসাউফের আলোকে তাঁরা এমন একটি সমাজ গঠন করেছেন, যেখানে হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই—আছে মানবতা, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ। তিনি আরও বলেন, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মাশায়েখগণ তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। যতদিন এ তাসাউফের দর্শন টিকে থাকবে, ততদিন সমাজে শান্তি থাকবে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না। তিনি এই মাহফিলকে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং একটি “আধ্যাত্মিক আন্দোলন” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে আগত লাখো ভক্ত কেবল প্রার্থনায় অংশ নেন না, বরং আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নের অঙ্গীকারে নিজেকে সমর্পণ করেন। এ দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন, যেখানে শুধু ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়। খোশরোজ শরীফ মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুবে মইনুদ্দীন (মা.জি.আ.),সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক এ মইনুদ্দীন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনিয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী। মাহফিল সঞ্চালনা করেন মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা।