১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাউদকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গৌরীপুর বাজারে ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৯৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঢাকা–হোমনা সড়ক সংলগ্ন বাজারের পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের টানা আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের ব্যাপক অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনার ফায়ার সার্ভিসের মোট ৯টি ইউনিট একযোগে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের শুরু ফার্নিচারের একটি দোকান থেকে। ফার্নিচারের দোকানে থাকা দাহ্য কেমিক্যাল ও রঙের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের দোকানগুলোও আগুনে engulfed হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে অন্তত ১০টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং চাল ও খেজুরের একটি গোডাউন পুড়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “আগুনের এই লেলিহান শিখায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটে আমাদের কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।”

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, “নতুন কৌশল এবং ৯টি ইউনিটের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।”

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, “গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের জন্য তদন্ত চলছে।”

উল্লেখযোগ্য হলো, ঘটনার সময় উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতির অভাবকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন অগ্নিকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

দাউদকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গৌরীপুর বাজারে ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Update Time : ০৩:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঢাকা–হোমনা সড়ক সংলগ্ন বাজারের পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের টানা আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের ব্যাপক অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনার ফায়ার সার্ভিসের মোট ৯টি ইউনিট একযোগে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের শুরু ফার্নিচারের একটি দোকান থেকে। ফার্নিচারের দোকানে থাকা দাহ্য কেমিক্যাল ও রঙের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের দোকানগুলোও আগুনে engulfed হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে অন্তত ১০টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং চাল ও খেজুরের একটি গোডাউন পুড়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “আগুনের এই লেলিহান শিখায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটে আমাদের কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।”

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, “নতুন কৌশল এবং ৯টি ইউনিটের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।”

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, “গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের জন্য তদন্ত চলছে।”

উল্লেখযোগ্য হলো, ঘটনার সময় উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতির অভাবকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন অগ্নিকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।