
মোঃ শাহজাহান বাশার
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ও দাবির প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশন বারবার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিত করছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শামিল।
ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন,“আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। সচিবালয় কিংবা নির্বাচন কমিশনে তাদের কোনো দাপ্তরিক কাজ না থাকলেও তারা সেখানে অবাধে যাতায়াত করছে এবং কমিশনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।”
এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়—
প্রথমত, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
তৃতীয়ত, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদল নেতারা।
ছাত্রদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ফিরে না এলে এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।





















