
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করেছে। এতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন এবং কম্বোডিয়ায় বিপুল অবৈধ সম্পত্তির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৪টা ১৫ মিনিটে কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, পুলিশ ও অন্যান্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে এসব নথি জব্দ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত নথিতে বিদেশে নতুন সম্পদ অর্জন, বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের তথ্য রয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—এসব নথিতে বিদেশে মুদ্রা পাচারের (মানিলন্ডারিং) সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা ৫৮২টি সম্পদের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে নতুন নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে সঠিক পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারে।
দুদক সূত্র মতে, অভিযানের আগেই নথিগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কালুরঘাটে অবস্থিত আরামিট গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বস্তাগুলো প্রথমে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যান ইউসিবিএল চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানের ড্রাইভার মো. ইলিয়াস তালুকদার। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দুদকের অভিযানের আগে সেগুলো পাশের ওসমান তালুকদারের বাড়িতে সরিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকেই দুদক কর্মকর্তারা সেগুলো উদ্ধার করেন।
দুদকের অনুসন্ধান টাস্কফোর্স জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই নথি ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে সাইফুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী উৎপল পাল ও আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে। ১৮ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



















