১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের হয়বতপুরে এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্বপ্নভঙ্গ—প্রভাবশালী প্রতারকের ফাঁদে নিঃস্ব মাসুদ রানা পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩১৩১ বার পঠিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর সদর, হয়বতপুরের ভাগ্যাহত পরিবার, পথে বসার উপক্রম

​নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের ঘটনা এটি। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে কর্মক্ষমতা হারানো প্রতিবন্ধী গার্মেন্টস শ্রমিক মাসুদ রানা এবং তার শিক্ষাজীবনে আশাবাদী পরিবার আজ প্রভাবশালী এক প্রতারকের জাঁতাকলে পড়ে নিজ ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে। একক উপার্জনের মাধ্যমে জীবন চালানো এই পরিবারটি বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
​প্রতারক নজরুল ইসলাম তার প্রতারণার জালে তার নিজ নামের জমি মর্টগেজ গোপন করে বিক্রি করে।
​মাসুদ রানা তার পরিবারকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দিতে নজরুলের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে জমিটি খরিদ করেন এবং সেখানেই বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।
​কিন্তু, প্রতারক নজরুল ইসলাম ছিল আরও একধাপ এগিয়ে। জানা গেছে, জমি বিক্রির অনেক আগেই সে গোপনে জমিটি ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) রেখে মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করে। মাসুদ রানার কাছে এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে সে জমিটি বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয়।
​বিক্রির পরও নজরুল ঋণ পরিশোধ না করায়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মাসুদ রানার বাড়ির জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে জমিটি নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করবে মর্মে হুশিয়ারে দেন এর ফলস্বরূপ, নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থে খরিদ করা জমি ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে হয় অসহায় মাসুদ রানার পরিবারকে।
শিক্ষানুরাগী পরিবারের কঠিন সংগ্রামী কর্তা
​মাসুদ রানা একজন সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিক, যার একক উপার্জনই ছিল পুরো পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। এই পরিবারটি ছিল শিক্ষানুরাগী।
​বড় ছেলে: বর্তমানে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র।
​মেজো সন্তান: নাটোর এন এস সরকারি কলেজ থেকে সম্প্রতি এইচএসসি পাস করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
​ছোট ছেলে: সবেমাত্র ৫ বছর বয়সে পা দিয়েছে।
​নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হওয়ায় তাদের এই শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

​অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম হয়বতপুরের আদি ও স্থানীয় বাসিন্দা। তার ক্ষমতার দাপট সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তার চলার কৌশল খুবই ভিন্ন—যখন যেই দল ক্ষমতায় থাকে, সে সেই দলেরই ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। কেউ কেউ বলেন, তার হাতের মুঠোয় নাকি সব দলেরই ক্ষমতা!
​নজরুল বিভিন্ন সময় এমপি-মন্ত্রীদের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মাসুদ রানার মতো ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। এই রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ।
​মাসুদ রানা তার বসতভিটা পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রভাবশালী এই প্রতারকের ষড়যন্ত্রের কারণে মাসুদের মতো একজন প্রতিবন্ধী শ্রমিকের গোটা পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে।
​অতএব, আমরা প্রশাসনের কাছে প্রকৃত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দ্রুত তদন্ত করে এই মামলার দ্রুততম সময়ে ন্যায়সঙ্গত রায় ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি, যাতে অসহায় মাসুদ রানা পরিবার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

নাটোরের হয়বতপুরে এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্বপ্নভঙ্গ—প্রভাবশালী প্রতারকের ফাঁদে নিঃস্ব মাসুদ রানা পরিবার

Update Time : ০৯:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার

নাটোর সদর, হয়বতপুরের ভাগ্যাহত পরিবার, পথে বসার উপক্রম

​নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের ঘটনা এটি। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে কর্মক্ষমতা হারানো প্রতিবন্ধী গার্মেন্টস শ্রমিক মাসুদ রানা এবং তার শিক্ষাজীবনে আশাবাদী পরিবার আজ প্রভাবশালী এক প্রতারকের জাঁতাকলে পড়ে নিজ ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে। একক উপার্জনের মাধ্যমে জীবন চালানো এই পরিবারটি বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
​প্রতারক নজরুল ইসলাম তার প্রতারণার জালে তার নিজ নামের জমি মর্টগেজ গোপন করে বিক্রি করে।
​মাসুদ রানা তার পরিবারকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দিতে নজরুলের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে জমিটি খরিদ করেন এবং সেখানেই বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।
​কিন্তু, প্রতারক নজরুল ইসলাম ছিল আরও একধাপ এগিয়ে। জানা গেছে, জমি বিক্রির অনেক আগেই সে গোপনে জমিটি ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) রেখে মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করে। মাসুদ রানার কাছে এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে সে জমিটি বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয়।
​বিক্রির পরও নজরুল ঋণ পরিশোধ না করায়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মাসুদ রানার বাড়ির জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে জমিটি নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করবে মর্মে হুশিয়ারে দেন এর ফলস্বরূপ, নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থে খরিদ করা জমি ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে হয় অসহায় মাসুদ রানার পরিবারকে।
শিক্ষানুরাগী পরিবারের কঠিন সংগ্রামী কর্তা
​মাসুদ রানা একজন সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিক, যার একক উপার্জনই ছিল পুরো পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। এই পরিবারটি ছিল শিক্ষানুরাগী।
​বড় ছেলে: বর্তমানে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র।
​মেজো সন্তান: নাটোর এন এস সরকারি কলেজ থেকে সম্প্রতি এইচএসসি পাস করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
​ছোট ছেলে: সবেমাত্র ৫ বছর বয়সে পা দিয়েছে।
​নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হওয়ায় তাদের এই শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

​অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম হয়বতপুরের আদি ও স্থানীয় বাসিন্দা। তার ক্ষমতার দাপট সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তার চলার কৌশল খুবই ভিন্ন—যখন যেই দল ক্ষমতায় থাকে, সে সেই দলেরই ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। কেউ কেউ বলেন, তার হাতের মুঠোয় নাকি সব দলেরই ক্ষমতা!
​নজরুল বিভিন্ন সময় এমপি-মন্ত্রীদের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মাসুদ রানার মতো ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। এই রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ।
​মাসুদ রানা তার বসতভিটা পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রভাবশালী এই প্রতারকের ষড়যন্ত্রের কারণে মাসুদের মতো একজন প্রতিবন্ধী শ্রমিকের গোটা পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে।
​অতএব, আমরা প্রশাসনের কাছে প্রকৃত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দ্রুত তদন্ত করে এই মামলার দ্রুততম সময়ে ন্যায়সঙ্গত রায় ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি, যাতে অসহায় মাসুদ রানা পরিবার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেতে পারে।