০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ভোটের মাঠে ভিন্ন লড়াইয়ের আভাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৭৮ বার পঠিত হয়েছে

সাগর আহমেদ জজ, (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলা মায়ের এক রূপসী কন্যা নেত্রকোণার- পূর্বধলা। দিগন্ত বিস্তৃত হাওর, সবুজের সমারোহ আর গাঙ-নদীর মিতালি ১৬০ নেত্রকোণা-৫( পূর্বধলা) ভূ-প্রকৃতিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শান্ত নেত্রকোণায় বইতে শুরু করেছে ভিন্ন রকম হাওয়া। সরগরম হয়ে উঠছে এই জনপদের আগাম ভোটের মাঠ।

পূর্বধলা উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের আসন ১৬০-নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা)। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই পূর্বধলার প্রত্যন্ত পল্লী থেকে শুরু করে উপজেলা সদর পর্যন্ত শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এবারের নির্বাচনে কে পরবেন ধানের শীষের মুকুট? কে হবেন বিএনপির কান্ডারি?

তবে, এবারের নির্বাচনে কেবল দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়,১৬০- নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা) আসনে এক ভিন্ন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর তা হলো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

১৬০-নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা) আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে নেমেছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন পূর্বধলা উপজেলার জে এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম মোবারক ইসলাম তালুকদার সাহেবের ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদুল্লাহ্ হলের সাবেক ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একই হলের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সম্মানিত সদস্য, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এবং বিগত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকায় ও পূর্বধলায় ১১টি মামলা আছে
এ এস এম শহীদুল্লাহ্ ইমরানের নামে।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরেকজন হলেন এডভোকেট আবু তাহের তালুকদার জেলা বিএনপির তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন, বর্তমান পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। গত ১৬ বছর ৭ মাস আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ছিলেন সক্রিয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে করেছেন নির্বাচন। সব মিলিয়ে এডভোকেট আবু তাহের তালুকদার বিএনপি’র একজন শক্তিশালী প্রার্থী।
ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা। তার বাবা ডাক্তার মুহাম্মদ আলী ছিলেন তিনবারের সংসদ সদস্য আর মা অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এলাকায় পিতার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে গণসংযোগ করছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনীতি শুরু করলেও ডা : মোহাম্মদ আলীর ছেলে হিসাবে মাহাবুবল আলম রানা এলাকায় আলোচিত মনোনয়ন প্রার্থী।

মনোনয়ন দৌড়ের তালিকায় পরের নামটি বাবুল আলম তালুকদার।তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ,
নেত্রকোনা সরকারী কলেজে ছাত্রদল থেকে ভিপি মনোনয়ন পেয়েছিলেন । গত ১৫ বছর পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার উপর ও আওয়ামী লীগের হামলা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
এরপর আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন । গেলো রমজান মাস থেকে এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। বিএনপির স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে আলোচনাও তৈরি করতে পেরেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, এই পাঁচজনের মধ্য থেকেই কার গলায় উঠবে ধানের শীষের মালা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে মনোনয়ন দৌড়ে এ এস এম শহিদুল্লাহ ইমরান এগিয়ে আছেন। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে ভালো যোগাযোগ হতে পারে বড় ফ্যাক্টর। তাই এখনই মনোনয়ন নিয়ে নিশ্চিত কিছু আন্দাজ করা যাচ্ছে না।

তবে, নেত্রকোণা-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল বিএনপির ভ্যন্তরীণ মনোনয়ন যুদ্ধই নয়, এক ভিন্ন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও দেখা যাচ্ছে। জামায়াত,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসেন খান,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর একক প্রার্থী নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি, হাফেজ মাওলানা মুফতি নুরুল ইসলাম হাকিমী, খেলাফত আন্দোলন তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। তিনি ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ খান। এই প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতের অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা হয়ে উঠতে পারেন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

নির্বাচনের পথ আরও মাস ছয়েক দূরের হলেও এখনই জমজমাট নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছে পূর্বধলার জনগণ,চায়ের স্টল গুলোর মধ্যে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সেই লড়াইয়ের প্রথম পর্বে থাকছে বিএনপির মনোনয়ন। কে পাবেন ধানের শীষের ঝাণ্ডা?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

র‍্যাবের অভিযানে ভুট্টার খড়ির মধ্য থেকে মিললো গাঁজা গ্রেফতার-৩

নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ভোটের মাঠে ভিন্ন লড়াইয়ের আভাস

Update Time : ১১:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

সাগর আহমেদ জজ, (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ
সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলা মায়ের এক রূপসী কন্যা নেত্রকোণার- পূর্বধলা। দিগন্ত বিস্তৃত হাওর, সবুজের সমারোহ আর গাঙ-নদীর মিতালি ১৬০ নেত্রকোণা-৫( পূর্বধলা) ভূ-প্রকৃতিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শান্ত নেত্রকোণায় বইতে শুরু করেছে ভিন্ন রকম হাওয়া। সরগরম হয়ে উঠছে এই জনপদের আগাম ভোটের মাঠ।

পূর্বধলা উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের আসন ১৬০-নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা)। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই পূর্বধলার প্রত্যন্ত পল্লী থেকে শুরু করে উপজেলা সদর পর্যন্ত শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এবারের নির্বাচনে কে পরবেন ধানের শীষের মুকুট? কে হবেন বিএনপির কান্ডারি?

তবে, এবারের নির্বাচনে কেবল দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়,১৬০- নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা) আসনে এক ভিন্ন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর তা হলো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

১৬০-নেত্রকোণা-৫(পূর্বধলা) আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে নেমেছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন পূর্বধলা উপজেলার জে এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম মোবারক ইসলাম তালুকদার সাহেবের ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শহীদুল্লাহ্ হলের সাবেক ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একই হলের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সম্মানিত সদস্য, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এবং বিগত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকায় ও পূর্বধলায় ১১টি মামলা আছে
এ এস এম শহীদুল্লাহ্ ইমরানের নামে।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরেকজন হলেন এডভোকেট আবু তাহের তালুকদার জেলা বিএনপির তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন, বর্তমান পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। গত ১৬ বছর ৭ মাস আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ছিলেন সক্রিয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে করেছেন নির্বাচন। সব মিলিয়ে এডভোকেট আবু তাহের তালুকদার বিএনপি’র একজন শক্তিশালী প্রার্থী।
ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা। তার বাবা ডাক্তার মুহাম্মদ আলী ছিলেন তিনবারের সংসদ সদস্য আর মা অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এলাকায় পিতার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে গণসংযোগ করছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনীতি শুরু করলেও ডা : মোহাম্মদ আলীর ছেলে হিসাবে মাহাবুবল আলম রানা এলাকায় আলোচিত মনোনয়ন প্রার্থী।

মনোনয়ন দৌড়ের তালিকায় পরের নামটি বাবুল আলম তালুকদার।তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ,
নেত্রকোনা সরকারী কলেজে ছাত্রদল থেকে ভিপি মনোনয়ন পেয়েছিলেন । গত ১৫ বছর পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার উপর ও আওয়ামী লীগের হামলা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
এরপর আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন । গেলো রমজান মাস থেকে এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। বিএনপির স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে আলোচনাও তৈরি করতে পেরেছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, এই পাঁচজনের মধ্য থেকেই কার গলায় উঠবে ধানের শীষের মালা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে মনোনয়ন দৌড়ে এ এস এম শহিদুল্লাহ ইমরান এগিয়ে আছেন। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে ভালো যোগাযোগ হতে পারে বড় ফ্যাক্টর। তাই এখনই মনোনয়ন নিয়ে নিশ্চিত কিছু আন্দাজ করা যাচ্ছে না।

তবে, নেত্রকোণা-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল বিএনপির ভ্যন্তরীণ মনোনয়ন যুদ্ধই নয়, এক ভিন্ন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও দেখা যাচ্ছে। জামায়াত,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসেন খান,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর একক প্রার্থী নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি, হাফেজ মাওলানা মুফতি নুরুল ইসলাম হাকিমী, খেলাফত আন্দোলন তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। তিনি ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ খান। এই প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতের অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা হয়ে উঠতে পারেন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

নির্বাচনের পথ আরও মাস ছয়েক দূরের হলেও এখনই জমজমাট নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছে পূর্বধলার জনগণ,চায়ের স্টল গুলোর মধ্যে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সেই লড়াইয়ের প্রথম পর্বে থাকছে বিএনপির মনোনয়ন। কে পাবেন ধানের শীষের ঝাণ্ডা?