
আবুল হোসেন বাবলুঃ
দুই গৃহবধূকে অপহরণ করে একজনকে গণধর্ষণ এবং অন্যজনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাদী জয়ন উদ্দীনের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাদী তার স্ত্রী মেয়ে সহ দেবীগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত শালডাঙ্গা সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেয়ে বসবাস করেন। এরই মধ্যে জয়ন উদ্দীনের শ্যালকের স্ত্রী বাদীর বাসায় বেড়াতে আসেন।
ঘটনার দিন (৩১ মে) জয়ন উদ্দীনের মেয়ে এবং শ্যালকের স্ত্রী পার্শ্ববর্তী বোদা থানাধীন বদেশ্বরী এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে রাত আনুমানিক সোয়া দশটার দিকে ২ বখাটে যুবক পারভেজ (২০) এবং বিশ্বজিৎ দাস (২১) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন অপহরণ করে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে বাদীর মেয়েকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পরে বাদীর শ্যালকের স্ত্রীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে বাদীর শ্যালকের স্ত্রী কৌশলে বখাটেদের
চোখে ও মুখে বালি দিয়ে পালিয়ে যান এবং বাদীর পরিবারকে ঘটনার বিষয়ে জানান।
এদিকে ধর্ষিত ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করানো হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ০২ জুন ধৃত আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু দমন আইন, ২০০০ সালের ৭/৯(৩)/৯(৪)(খ)/৩০ ধারায় একটি গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৩। ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল (০৯ জুন) ভোর পৌনে ছয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী থানার অন্তর্ভুক্ত ১৫নং দেবীপুর ইউনিয়নের খলিশাকুড়ি গ্রামস্থ জনৈক জিতু দাসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় ২ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা পঞ্চগড় জেলার অমরখানা গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে পারভেজ (২০) এবং একই থানাধীন ছত্র শিকারপুর গ্রামের মধু দাসের ছেলে বিশ্বজিৎ দাস (২১)। অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


















