
নিজ ভোট প্রয়োগ করা শরয়ীভাবে একটি অপরিহার্য দায়িত্ব
জন্মগত ভদ্রতা এবং শরাফতের কারণে সরল-লোজা মানুষের মধ্যে এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে ভ্রান্তিটি সৃষ্টি হয়েছে, তার উদ্দেশ্য তেমন খারাপ না হলেও ফলাফল খুবই ভয়াবহ। সেই ভ্রান্তিটি হল- বর্তমানে ধোঁকা-প্রতারণার অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘রাজনীতি’। তাই ভদ্র মানুষের না রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত, না ইলেকশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত আর না তাদের ভোট দেয়া উচিত।
এই ভুল ধারণার জন্ম যত সৎনিয়তের ওপর ভিত্তি করেই হোক না কেন: এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। দেশ-জাতির জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। বিগত দিনে আমাদের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ অর্থপূজারি সুবিধাবাদী চক্রের হাতে ছিল যিখি। এদের ঘৃণ্য থাবায় রাজনীতির পবিত্র অঙ্গণ ছিল একেবারেই কলুষিত। কিন্তু রাজনীতির এই নোংড়া অঙ্গনকে যতদিন পর্যন্ত কিছু সাফ-সুতরা মানুষ পাক-পবিত্র করার সৎ উদ্দেশ্যে এগিয়ে না আসবে, ততদিন পর্যন্ত এই অঙ্গনের নোংরামী ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। আর একদিন না একদিন এই নোংড়া-নাপাক সর্বগ্রাসী ক্ষতিকর প্রবাহের স্রোত তাদের নিজেদের গৃহভ্যন্তরে যেয়ে পৌঁছবে; সুতরাং সততা আর বিচক্ষণতার দাবি এই নয় যে, রাজনীতির এই নোংড়ামীকে দূর থেকে নোংরা আখ্যা দিয়ে তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা এবং দূরে অবস্থান করে এর ভয়াবহতাকে তুলে ধরে আক্ষেপ অনুতাপ করতে থাকা। বরং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার দাবি হল যে, রাজনীতির ময়দানকে এসব দুর্বৃত্তের হাত থেকে ছিনিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালানো- যারা যুগ যুগ ধরে এই ময়দানকে কলুষিত করে রেখেছে।
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাহি) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন।
الناس إذا راؤو الظالم فلم يتخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب
‘কোন জালেমকে জুলুম করতে দেখেও যদি মানুষ সেই জালেমের হাত গুটিয়ে দিতে উদ্যোগী না হয়, তাহলে আল্লাহর শাস্তি ব্যাপক ভিত্তিতে আসাটা বিচিত্র নয়।।
(জামউল ফাওয়ায়িদ। খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫১ সূত্র আবু দাউদ, তিরমিজি।)
যদি লোকচক্ষুর সামনে জুলুম অত্যাচার অব্যাহত থাকে। আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে যে কোন পর্যায়ে এই জুলুমের মাত্রা কমিয়ে আনা বা বন্ধ করার শক্তি সাহস থাকে, তাহলে উপরোক্ত হাদীসের আলোকে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা ফরয হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চুপ করে বসে না থেকে শক্তি সামর্থানুযায়ী জুলুমকে প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালানো অন্যতম দায়িত্ব।
অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান মনে করে থাকেন, যদি আমরা আমাদের ভোট ক্ষমতা প্রয়োগ না করি, তাহলে আর এতে ক্ষতিটাই বা কী? কিন্তু শুনে রাখুন! উভয় জগতের কান্ডারী মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসম্পর্কে কী ইরশাদ করেছেন? সাহল ইবনে হানীফ (রাযি) থেকে ‘মুসনাদে আহমদ’ গ্রন্থে বর্ণনা এসেছে, হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন।
من أذل عبده مؤمن فلم ينصره وهو يقدر على أن ينصره أذله الله على رؤس الخلائق
‘যে ব্যাক্তির সামনে কোন মুমিন মুসলমানকে অপদস্থ করা হয়, অথচ তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে তার সাহায্যে এগিয়ে আসে না, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের ময়দানে সর্বসাধারণের সামনে তাকে অপদস্থ করবেন।’
( জামউল ফাওয়ায়িদ: খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫১)
সবগুলো পার্ট ধারাবাহিকভাবে জানতে চোখ রাখুন দৈনিক সরেজমিনের ফেসবুক পেজে: https://www.facebook.com/Doiniksarezamin
নোটঃ ফেকহী মাকালাত ২/৬০০পৃ:
বিশ্বকল্যান পাবলিকেশন্স।






















