
আবুল হোসেন বাবলুঃ
“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ১৯ থেকে ২১ মে২’৬ পর্যন্ত রংপুর বিভাগের ৮ জেলা ও ৫৮ টি উপজেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ভূমিসেবা মেলা-২০২৬”। এ উপলক্ষে রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় রংপুর সার্কিট হাউসে বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শহিদুল ইসলাম এনডিসি, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) আবু জাফর, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার নাজমুল হুদাসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনবান্ধব ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অটোমেশন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড ভূমিসেবা নিশ্চিত করতেই দেশব্যাপী “ভূমিসেবা মেলা- ২০২৬” আয়োজন করা হয়েছে।
বক্তারা জানান, বর্তমানে www.land.gov.bd প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা অনলাইনে নামজারি আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান, দাগ ও মৌজা ম্যাপ অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এছাড়া বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নামজারির ফি অনলাইনে পরিশোধের সুবিধাও চালু রয়েছে। নামজারি আবেদন বাতিল হলে এসএমএসের মাধ্যমে কারণ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় ভূমি সংক্রান্ত সব সেবা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে বলেও জানানো হয়। “ল্যান্ড সার্ভিস গেটওয়ে (এলএসজি)” সফটওয়্যারের মাধ্যমে নাগরিকরা একই ঠিকানায় সব ভূমিসেবা পাবেন। পাশাপাশি ই-রেজিস্ট্রেশন ও ই-মিউটেশন সিস্টেম সংযুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে জমি রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, সারাদেশে ইউনিয়ন ভূমি অফিস আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৪৩টি আধুনিক ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১ হাজার ৩৩৩টি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব অফিসে স্মার্ট ডেস্কটপ কম্পিউটার, বুক স্ক্যানার, লেজার প্রিন্টারসহ আধুনিক সব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা ও রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসেও স্মার্ট ডেস্কটপ, ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল এবং ডিজিটাল সার্ভে মেশিন সরবরাহের কার্যক্রম চলছে।
ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ও স্মার্ট মৌজা ম্যাপ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে জমির খতিয়ান, ভাগ-বাটোয়ারা ও পূর্বের রেকর্ডসমূহ সহজে অনুসন্ধান করা যাবে। এতে জালিয়াতি ও মামলাজট কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ ও পরামর্শের জন্য ১৬১২২ নম্বরে হটলাইন চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়। নাগরিকরা এ নম্বরে কল করে ভূমি বিষয়ে অভিযোগ জানাতে এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারবেন।
এছাড়া রংপুর বিভাগে ইতোমধ্যে ১৭৬টি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ৩৭টি, গাইবান্ধায় ১৭টি, কুড়িগ্রামে ১৩টি, লালমনিরহাটে ৯টি, নীলফামারীতে ১৪টি, দিনাজপুরে ৩৯টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৬টি এবং পঞ্চগড়ে ৪১টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংস্কার সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন ২০২৩, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন ২০২৩ সহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইনসহ আরও কয়েকটি আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জমি ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা সনদ প্রদান, সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্মে সব ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণ, পাঁচ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণ এবং বাড়িতে বসেই অনলাইনে অধিকাংশ ভূমিসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কর্মকর্তারা। এ সময় ভূমির মালিকানা জটিলতা নিরসন, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ, ভূমিসেবা সহজীকরণ, সরকারি খাস জমি পৃথকীকরণ, সাব রেজিস্টার অফিস এবং সেটেলমেন্ট অফিসসহ ভূমি সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর অনিয়ম এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।




















