০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“তিতাস গ্যাসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব: শ্রম আইনের লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা”

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩০৯৬ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

১৭ নভেম্বর ২০২৫, ঢাকা

তিতাস গ্যাস টিএন্ডডি পিএলসি-তে অবসরপ্রাপ্ত ও বহিরাগত কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোম্পানির পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে হয়ে আসছিল। শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা ১৮০(১) খ মোতাবেক “যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, সেখানে কর্মরত নয় এমন ব্যক্তি ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হতে পারবেন না”। তবে পূর্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থার ক্ষেত্রে কিছু শর্তসাপেক্ষে অবসরপ্রাপ্তরা মোট কর্মকর্তার ১০ শতাংশের মধ্যে নির্বাচিত হতে পারতেন।

এটি সংযুক্ত কপি ও অফিস নোটিশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন সংশোধন এবং অবসরপ্রাপ্তদের সীমাবদ্ধত -১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অতিরিক্ত সংখ্যা) অনুসারে ধারা ১৮০(১) খ এর শর্তাংশ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীরা আর ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবেন না।

তিতাস গ্যাসে এর পূর্বে যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব প্রদান করতেন, তারা এখন আইনগতভাবে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার যোগ্য নন।

মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রম আইন সংশোধনের পরও যদি অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীরা ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন, তাহলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পড়বেন। এতে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা, বিশৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অতএব, ভবিষ্যতে শ্রম আইন মেনে চলা এবং আইনগত জটিলতা এড়ানোর জন্য কোম্পানির প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিবেদক ও অনুলিপি

চিঠি/নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে:
নিবেদক:
মোঃ এবিএম মুসা, মানব সম্পদ বিভাগ, তিতাস গ্যাস টিএন্ডডি পিএলসি

অনুলিপি:
১। মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর, ঢাকা-১০০০
২। চেয়ারম্যান, পেট্রোবাংলা, ঢাকা-১২১৫
৩। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), তিতাস গ্যাস
৪। উপ-মহাব্যবস্থাপক (কর্মচারী সম্পর্ক বিভাগ), তিতাস গ্যাস

এই অফিস নোটিশের মাধ্যমে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে:

অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীদের নেতৃত্বে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা আইন লঙ্ঘন হলে প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার আওতায় আসবে।

ভবিষ্যতে শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনকে এখন থেকে আরও কঠোর মনিটরিং ও আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের প্রশাসন এখন আইন মেনে চলা, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সজাগ অবস্থানে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

“তিতাস গ্যাসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব: শ্রম আইনের লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা”

Update Time : ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

১৭ নভেম্বর ২০২৫, ঢাকা

তিতাস গ্যাস টিএন্ডডি পিএলসি-তে অবসরপ্রাপ্ত ও বহিরাগত কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোম্পানির পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে হয়ে আসছিল। শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা ১৮০(১) খ মোতাবেক “যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, সেখানে কর্মরত নয় এমন ব্যক্তি ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হতে পারবেন না”। তবে পূর্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থার ক্ষেত্রে কিছু শর্তসাপেক্ষে অবসরপ্রাপ্তরা মোট কর্মকর্তার ১০ শতাংশের মধ্যে নির্বাচিত হতে পারতেন।

এটি সংযুক্ত কপি ও অফিস নোটিশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন সংশোধন এবং অবসরপ্রাপ্তদের সীমাবদ্ধত -১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অতিরিক্ত সংখ্যা) অনুসারে ধারা ১৮০(১) খ এর শর্তাংশ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীরা আর ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্ব বা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবেন না।

তিতাস গ্যাসে এর পূর্বে যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব প্রদান করতেন, তারা এখন আইনগতভাবে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার যোগ্য নন।

মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রম আইন সংশোধনের পরও যদি অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীরা ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন, তাহলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পড়বেন। এতে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা, বিশৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অতএব, ভবিষ্যতে শ্রম আইন মেনে চলা এবং আইনগত জটিলতা এড়ানোর জন্য কোম্পানির প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিবেদক ও অনুলিপি

চিঠি/নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি মানব সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে:
নিবেদক:
মোঃ এবিএম মুসা, মানব সম্পদ বিভাগ, তিতাস গ্যাস টিএন্ডডি পিএলসি

অনুলিপি:
১। মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর, ঢাকা-১০০০
২। চেয়ারম্যান, পেট্রোবাংলা, ঢাকা-১২১৫
৩। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), তিতাস গ্যাস
৪। উপ-মহাব্যবস্থাপক (কর্মচারী সম্পর্ক বিভাগ), তিতাস গ্যাস

এই অফিস নোটিশের মাধ্যমে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে:

অবসরপ্রাপ্ত বা বহিরাগত কর্মচারীদের নেতৃত্বে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা আইন লঙ্ঘন হলে প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার আওতায় আসবে।

ভবিষ্যতে শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনকে এখন থেকে আরও কঠোর মনিটরিং ও আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের প্রশাসন এখন আইন মেনে চলা, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সজাগ অবস্থানে রয়েছে।