০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানা অনিয়মের অভিযোগ: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিমল চাকমার প্রত্যাহার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর সচেতন নাগরিকদের আবেদন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০২৪ বার পঠিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঈদগাঁও: ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমার বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার প্রত্যাহার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন সচেতন নাগরিক।

আবেদনে উল্লেখ্য যে, ইউএনও বিমল চাকমা ঈদগাঁও উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নানাবিধ দূর্নীতি,অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত । যার কারণে সে নিয়মিত গণ মাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে। বিশেষ করে গত কোরবানির আগে ১৫৫ টি বার্মিজ গরু-মহিষ অবৈধ বলে জব্দ করে ২/৩ দিনের নানা নাটকীয়তার পর ৩২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৮ মে ২০২৫ তারিখে ইউএনও বিমল চাকমাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চেয়ে আবেদন করেছিলেন সচেতন নাগরিক।

উক্ত আবেদন বর্তমানে এডিএম কক্সবাজারের নিকট তদন্তাধীন হলেও তা নিষ্পত্তি করণ রহস্যময় কারণে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়। এ সুযোগে দূর্ণীতিবাজ এ কর্মকর্তা তার অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা পুরোদমে অব্যাহত থাকে। অব্যাহত রাখেন উপজেলা জুড়ে ফসলি জমির টপ সয়েল লুটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিবর্তে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করে পরোক্ষভাবে সহায়তা।

বছরাধিককাল ধরে উপজেলার বিভিন্ন বালি মহাল ইজারা না দিলেও নিয়মিত অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে লোক দেখানো বালি জব্দ করে নিলামের নামে বালিখেকোদের আরো অবৈধ বালি উত্তোলনের সুযোগ করে দেন। যা এখনো অব্যাহত। যার কারণে সরকার রাজস্ব বঞ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি এসব বালি টপসয়েলের গর্তে পড়ে অর্ধডজনাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ বেরিয়ে আসে এ ইউএনও বিমল চাকমা কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকাকালীন প্রায় ২ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে ভূক্তভোগি মঞ্জুর আলম কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ,আদালত কক্সবাজারে পিটিশন মামলা নং -৫/২০২৫ দায়ের করেন। যা আদালত আমলে নিয়ে দুদককে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

এতসব দূর্নীতির সংবাদ গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হলে উপজেলার জনগণের মাঝে এ দূর্নীতিবাজ ইউএনও’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জনক্ষোভ বিস্ফোরণের আগেই তার প্রত্যাহার চেয়ে উপজেলার সচেতন নাগরিকদের পক্ষে গতকাল জেলা প্রশাসক আব্দুল মন্নান বরাবর আবেদন করেছেন এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর, এডভোকেট শেখ আহমদ ফারুকী, ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন ও এডভোকেট মোবারক হোসাইন সাঈদ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে ডিসি’র সাথে যুবদল সেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নানা অনিয়মের অভিযোগ: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিমল চাকমার প্রত্যাহার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর সচেতন নাগরিকদের আবেদন

Update Time : ১২:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঈদগাঁও: ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমার বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার প্রত্যাহার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন সচেতন নাগরিক।

আবেদনে উল্লেখ্য যে, ইউএনও বিমল চাকমা ঈদগাঁও উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নানাবিধ দূর্নীতি,অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত । যার কারণে সে নিয়মিত গণ মাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে। বিশেষ করে গত কোরবানির আগে ১৫৫ টি বার্মিজ গরু-মহিষ অবৈধ বলে জব্দ করে ২/৩ দিনের নানা নাটকীয়তার পর ৩২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৮ মে ২০২৫ তারিখে ইউএনও বিমল চাকমাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ চেয়ে আবেদন করেছিলেন সচেতন নাগরিক।

উক্ত আবেদন বর্তমানে এডিএম কক্সবাজারের নিকট তদন্তাধীন হলেও তা নিষ্পত্তি করণ রহস্যময় কারণে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়। এ সুযোগে দূর্ণীতিবাজ এ কর্মকর্তা তার অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা পুরোদমে অব্যাহত থাকে। অব্যাহত রাখেন উপজেলা জুড়ে ফসলি জমির টপ সয়েল লুটকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিবর্তে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করে পরোক্ষভাবে সহায়তা।

বছরাধিককাল ধরে উপজেলার বিভিন্ন বালি মহাল ইজারা না দিলেও নিয়মিত অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে লোক দেখানো বালি জব্দ করে নিলামের নামে বালিখেকোদের আরো অবৈধ বালি উত্তোলনের সুযোগ করে দেন। যা এখনো অব্যাহত। যার কারণে সরকার রাজস্ব বঞ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি এসব বালি টপসয়েলের গর্তে পড়ে অর্ধডজনাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ বেরিয়ে আসে এ ইউএনও বিমল চাকমা কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকাকালীন প্রায় ২ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে ভূক্তভোগি মঞ্জুর আলম কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ,আদালত কক্সবাজারে পিটিশন মামলা নং -৫/২০২৫ দায়ের করেন। যা আদালত আমলে নিয়ে দুদককে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

এতসব দূর্নীতির সংবাদ গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হলে উপজেলার জনগণের মাঝে এ দূর্নীতিবাজ ইউএনও’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জনক্ষোভ বিস্ফোরণের আগেই তার প্রত্যাহার চেয়ে উপজেলার সচেতন নাগরিকদের পক্ষে গতকাল জেলা প্রশাসক আব্দুল মন্নান বরাবর আবেদন করেছেন এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর, এডভোকেট শেখ আহমদ ফারুকী, ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন ও এডভোকেট মোবারক হোসাইন সাঈদ।