
আবুল হোসেন বাবলুঃ
কখনো সেনা সদস্য কখনো বা র্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের মূলহোতা গাইবান্ধায় র্যাব-১৩’র অভিযানে গ্রেফতার।
মামলার বাদী নন্দলালের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধৃত ভুয়া র্যাব পরিচয়ে প্রতারক আল আমিন নন্দলালের সিএনজিতে যাত্রী বেশে যাতায়াতের সময় নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। সে বর্তমানে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত আছে বলেও জানায়। এতে
ভুক্তভোগী সিএনজি চালক তাকে বিশ্বাস করে নিজের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করে।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুয়া র্যাব সদস্য সিএনজি চালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন। সেখানে প্রতারক আল আমিন তার জমি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ১৪ হাজার টাকা নেয়।
টাকা নেওয়ার পরেও নন্দলালের কাজ না হওয়ায় তিনি প্রতারক আল আমিনের মোবাইলে ফোন দিলে নাম্বারটি বন্ধ পান। তখন ভিকটিম গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, আল আমিন নামে কোনো র্যাব সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। পরবর্তীতে ভিকটিম নন্দলাল বাদী হয়ে ০৭ ফেব্রুয়ারী গাইবান্ধা সদর থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১১ ।
এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ৭ ফেব্রুয়ারী রাত পৌঁনে দুইটার দিকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণাকারীকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তার হেফাজত হতে সেনাবাহিনীর বুট, ব্যাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আইডি কার্ড, সেনাবাহিনীর মোবাইল পাস, অফিসিয়াল সিল, হ্যান্ডকাফ, সেনাবাহিনীর নেমপ্লেট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, বিভিন্ন চাকুরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র এবং একাধিক সিম কার্ড একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার অন্তর্ভুক্ত উলিপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের
নারিকেলবাড়ী এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২৭)।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আসামী আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনা ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। সে তার মোবাইলে নিজের ব্যবহৃত বিভিন্ন সিমকার্ডের নম্বরকে কর্নেল, লেঃ কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইত্যাদি নাম দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখে ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জন করতো এবং কাজ হয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দিতো। সে তার নিকট অবৈধভাবে রক্ষিত বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করতো। তাদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের কথা বলে টাকা নেয়া হলে তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতো। গ্রেফতারকৃত আমসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

















