
র্যাব-১১ এর অভিযানে কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজা ও ১৯৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা ও ১৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার সদর কোতয়ালী মডেল থানাধীন শাসনগাছা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকেই তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১) পারভীন আক্তার (৪৫), স্বামী মো. খোকন, গ্রাম পাহাড়পুর, থানা মুরাদনগর, জেলা কুমিল্লা।
২) জান্নাতুল ফেরদৌসী (২০), পিতা মকবুল হোসেন, গ্রাম অশোকতলা, থানা কোতয়ালী মডেল, জেলা কুমিল্লা।
৩) আফরোজা (১৮), পিতা মকবুল হোসেন, গ্রাম অশোকতলা, থানা কোতয়ালী মডেল, জেলা কুমিল্লা।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১০ কেজি গাঁজা এবং ১৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিল। তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-১১ জানায়, মাদকদ্রব্যের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ হতে অদ্যবধি র্যাব-১১ তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সময় র্যাব-১১ চাঞ্চল্যকর অপরাধী ৩২৮ জন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ১ জন, আরসা সদস্য ১৫ জন, জঙ্গি ২ জন, হত্যা মামলার ১৯৩ জন, ধর্ষণ মামলার ১০৭ জন, অস্ত্র মামলার ৪০ জনসহ মোট প্রায় ৬৪৯ জনের অধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে।
এছাড়া র্যাব-১১ এ সময়ে ১৩৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪০৮ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার, ৫২৩ জনের অধিক মাদক কারবারিকে গ্রেফতারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ৯৩ জন অপহরণকারী গ্রেফতার ও ১০১ জন ভিকটিম উদ্ধার, ছিনতাইকারী ও ডাকাত ১০০ জন, জেল পলাতক ৩৯ জন এবং প্রতারণার মামলার ১৮ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাব-১১ এর এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।


















