০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণপাড়ায় ইউপি সদস্যের বাড়ির ছাদ থেকে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, সহযোগী আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০২৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শশীদল গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) নূরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নূরুল ইসলামের সহযোগী কাউছার (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ও এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স এ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের মতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর শশীদল এলাকায় নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কাউছার নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

পরে আটককৃত কাউছারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির ছাদে তল্লাশি চালিয়ে শুকানোর জন্য রাখা আরও ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গাঁজার মোট ওজন প্রায় ১০০ কেজি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,“গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ি থেকে মোট ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কাউছার নামে এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, নূরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তবে গাঁজার মতো মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার খবর স্থানীয়দের জন্য বিস্ময়ের। অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নূরুল ইসলাম ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আটককৃত কাউছার শশীদলের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে এবং নূরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাউছার স্বীকার করেছেন—তিনি নূরুল ইসলামের নির্দেশে নিয়মিতভাবে গাঁজা সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে অংশ নিতেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, জনপ্রতিনিধির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। তাই এই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

মাদকবিরোধী এই অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষ পুলিশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, “এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের জন্য এমন অভিযান নিয়মিত হলে সমাজ অনেকটা মাদকমুক্ত হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

ব্রাহ্মণপাড়ায় ইউপি সদস্যের বাড়ির ছাদ থেকে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, সহযোগী আটক

Update Time : ১১:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শশীদল গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) নূরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় নূরুল ইসলামের সহযোগী কাউছার (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ও এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স এ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের মতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর শশীদল এলাকায় নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কাউছার নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

পরে আটককৃত কাউছারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ির ছাদে তল্লাশি চালিয়ে শুকানোর জন্য রাখা আরও ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গাঁজার মোট ওজন প্রায় ১০০ কেজি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,“গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নূরুল ইসলাম মেম্বারের বাড়ি থেকে মোট ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কাউছার নামে এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। পলাতক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, নূরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তবে গাঁজার মতো মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার খবর স্থানীয়দের জন্য বিস্ময়ের। অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নূরুল ইসলাম ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আটককৃত কাউছার শশীদলের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে এবং নূরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাউছার স্বীকার করেছেন—তিনি নূরুল ইসলামের নির্দেশে নিয়মিতভাবে গাঁজা সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে অংশ নিতেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, জনপ্রতিনিধির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। তাই এই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

মাদকবিরোধী এই অভিযানে এলাকার সাধারণ মানুষ পুলিশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, “এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের জন্য এমন অভিযান নিয়মিত হলে সমাজ অনেকটা মাদকমুক্ত হবে।”