০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে সবজিক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ, কৃষক দুলাল মিয়া আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ৩০৪৮ বার পঠিত হয়েছে

 

মো. শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সবজিক্ষেতের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা চাষ করে আসছিলেন এক কৃষক। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গাঁজা গাছসহ আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কুমিল্লা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন, বুড়িচং থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম। অভিযানে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের বড়াইল পশ্চিম পাড়ার একটি সবজিক্ষেত থেকে গাঁজার গাছসহ মো. দুলাল মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর পেয়ে দুলাল মিয়া আগেই ক্ষেত থেকে বেশ কিছু গাঁজার গাছ সরিয়ে ফেলেন। তারপরও ঘটনাস্থল থেকে কিছু গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।

পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বক্স ভর্তি শুকনো গাঁজা এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সবজিক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ করতেন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মৃত মো. কালা মিয়ার ছেলে এবং উপজেলার বড়াইল পশ্চিম পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।

এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক সাংবাদিকদের জানান, “আসামিকে গাঁজার গাছসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন তৎপরতা এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এলাকাবাসী আরো জোরালো অভিযান ও তদন্ত দাবি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধে লিপ্ত না হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বুড়িচংয়ে সবজিক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ, কৃষক দুলাল মিয়া আটক

Update Time : ০৫:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

 

মো. শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সবজিক্ষেতের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা চাষ করে আসছিলেন এক কৃষক। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গাঁজা গাছসহ আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কুমিল্লা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন, বুড়িচং থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম। অভিযানে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের বড়াইল পশ্চিম পাড়ার একটি সবজিক্ষেত থেকে গাঁজার গাছসহ মো. দুলাল মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের খবর পেয়ে দুলাল মিয়া আগেই ক্ষেত থেকে বেশ কিছু গাঁজার গাছ সরিয়ে ফেলেন। তারপরও ঘটনাস্থল থেকে কিছু গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।

পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বক্স ভর্তি শুকনো গাঁজা এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সবজিক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ করতেন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মৃত মো. কালা মিয়ার ছেলে এবং উপজেলার বড়াইল পশ্চিম পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।

এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক সাংবাদিকদের জানান, “আসামিকে গাঁজার গাছসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন তৎপরতা এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এলাকাবাসী আরো জোরালো অভিযান ও তদন্ত দাবি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধে লিপ্ত না হয়।