
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশা ও হকারদের দখলে চলে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথটি কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, অ্যাম্বুলেন্স এবং মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি অটোরিকশা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গেটের সামনে ও আশপাশের ফুটপাথজুড়ে হকারদের দখলও দৃশ্যমান। তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করে পুরো এলাকা ব্যস্ত ও সংকীর্ণ করে ফেলেছে। ফলে জরুরি বিভাগের মূল প্রবেশপথে যান চলাচল ও রোগী পরিবহন কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্স এসে গেটের সামনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে বাধ্য হয়। অনেক সময় অটোরিকশা সরানো নিয়ে চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়, যা একাধিকবার হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একই চিত্র দেখা যায়। জরুরি সেবার জন্য নির্ধারিত স্থানটি ধীরে ধীরে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ফুটপাথ ও চলাচলের পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে হাসপাতাল এলাকায় সার্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জরুরি বিভাগে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে এসে প্রথমেই বাধার মুখে পড়তে হয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।”
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে পুরো এলাকা।
সচেতন মহলের মতে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি প্রবেশপথ কোনোভাবেই অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। এটি রোগীদের জীবনরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়ায় এখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি।
তারা আরও বলেন, অবিলম্বে অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা না হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, জরুরি বিভাগের গেটকে অবৈধ দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য নির্বিঘ্ন চিকিৎসা সেবার পথ নিশ্চিত করতে হবে।



















