১১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ে প্রকাশ্য মাটি লুট, ঝুঁকিতে গোমতী বাঁধ ও ফসলি জমি 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:১৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩১২৫ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা শহরসংলগ্ন গোমতী নদীর দুই তীরে চলছে অবাধ মাটি লুটের মহোৎসব। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ি পর্যন্ত নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি তুলে পাচার করছে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণস্থলে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ পাড়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। নদীর উৎসমুখ কটকবাজার, গোলাবাড়ি থেকে শুরু করে পালপাড়া পীরবাড়ির সামনে পর্যন্ত উভয় তীরে প্রকাশ্যেই চলছে মাটি উত্তোলন। এতে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে এবং শহর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি কাটার কারণে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাঁধের গা কেটে নেওয়ায় সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দক্ষিণ তীরের দুর্গাপুর, ভাটপাড়া, পালপাড়া পীরবাড়ি, কাপ্তানবাজার, চানপুর মাস্টারবাড়ি, শালধর ও সামারচর এলাকায় অন্তত ২০টি ট্রাক্টর দিয়ে একযোগে মাটি তোলা হচ্ছে। এসব ট্রাক্টর চলাচলের সুবিধার জন্য নদীর বাঁধ কেটে অবৈধভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

নদীর উত্তর পাড়েও পরিস্থিতি ভয়াবহ। ছত্রখিল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই অবাধে মাটি কাটতে দেখা গেছে। এমনকি বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়া ও নদীতীরের গাছের নিচ থেকেও মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। চানপুর বেইলি সেতু ও কাপ্তান বাজারের পশ্চিম অংশের নদীতীর থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর দুই পাড়ে অন্তত সাতটি অবৈধ ঘাট থেকে নিয়মিত মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাক্টরচালক জানান, প্রতি ট্রাক্টর মাটি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে এক স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এই মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে সরবরাহ করি। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কিছু প্রশাসনিক লোকজনকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চালাতে হচ্ছে।’

গোমতী নদীর দুই পাড়ে এভাবে অবৈধ মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ও নগর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ে প্রকাশ্য মাটি লুট, ঝুঁকিতে গোমতী বাঁধ ও ফসলি জমি 

Update Time : ০৭:২২:১৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা শহরসংলগ্ন গোমতী নদীর দুই তীরে চলছে অবাধ মাটি লুটের মহোৎসব। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ি পর্যন্ত নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি তুলে পাচার করছে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণস্থলে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ পাড়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। নদীর উৎসমুখ কটকবাজার, গোলাবাড়ি থেকে শুরু করে পালপাড়া পীরবাড়ির সামনে পর্যন্ত উভয় তীরে প্রকাশ্যেই চলছে মাটি উত্তোলন। এতে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে এবং শহর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি কাটার কারণে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাঁধের গা কেটে নেওয়ায় সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দক্ষিণ তীরের দুর্গাপুর, ভাটপাড়া, পালপাড়া পীরবাড়ি, কাপ্তানবাজার, চানপুর মাস্টারবাড়ি, শালধর ও সামারচর এলাকায় অন্তত ২০টি ট্রাক্টর দিয়ে একযোগে মাটি তোলা হচ্ছে। এসব ট্রাক্টর চলাচলের সুবিধার জন্য নদীর বাঁধ কেটে অবৈধভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

নদীর উত্তর পাড়েও পরিস্থিতি ভয়াবহ। ছত্রখিল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই অবাধে মাটি কাটতে দেখা গেছে। এমনকি বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়া ও নদীতীরের গাছের নিচ থেকেও মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে। চানপুর বেইলি সেতু ও কাপ্তান বাজারের পশ্চিম অংশের নদীতীর থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর দুই পাড়ে অন্তত সাতটি অবৈধ ঘাট থেকে নিয়মিত মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাক্টরচালক জানান, প্রতি ট্রাক্টর মাটি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে এক স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এই মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে সরবরাহ করি। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কিছু প্রশাসনিক লোকজনকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চালাতে হচ্ছে।’

গোমতী নদীর দুই পাড়ে এভাবে অবৈধ মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ও নগর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।