
মোঃ শাহজাহান বাশার
আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতকে আল্লাহর বিশেষ রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভের অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখেন। শাবান মাসের ১৪ তারিখের এই মহিমান্বিত রাতকে ইসলামে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। ফারসি ভাষায় ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা নাজাত। তাই এই রাতকে বান্দাদের পাপমুক্তি ও মুক্তির রাত হিসেবে উচ্চ মর্যাদায় বিবেচনা করা হয়।
ধর্মজ্ঞ আলেমরা বলেন, শবে বরাত এমন এক রাত যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। এই রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মোনাজাতে রাত কাটানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মুসলমানরা অতীত জীবনের গুনাহ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, ভবিষ্যতের কল্যাণ কামনা করেন এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পরবর্তী জীবন ও রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
শবে বরাত শুধুই ব্যক্তিগত ইবাদতের রাত নয়; এটি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। আলেম সমাজের পরামর্শ অনুযায়ী, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ ও জাতির কল্যাণে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান সবাইকে পালন করতে হবে। এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের কবরের যিয়ারত করা হয় এবং মরহুমদের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়—যা মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার নিদর্শন হিসেবে বিশিষ্ট।
শবে বরাতের আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য হলো—এটি পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তা বহন করে। শাবান মাসের পরই আসে সিয়াম সাধনার মাস রমজান, তাই এই রাত থেকেই রমজানের জন্য আত্মিক ও সামাজিক প্রস্তুতি শুরু হয়। দেশব্যাপী বহু পরিবার হালুয়া, রুটি ও বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরি করে তা আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিতরণ করে—যা সৌভাগ্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নিদর্শন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছেন—শবে বরাতকে শুধুমাত্র ইবাদত নয়, বরং আত্মসমালোচনা, মানবকল্যাণমূলক কাজ এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের মহামূল্যবান সময় হিসেবে ব্যবহার করতে।
মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হচ্ছে—তিনি আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, দেশ ও জাতিকে হেফাজত করুন এবং বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতির পথে পরিচালিত করুন। এ প্রার্থনা সকল মুসলমানের পক্ষ থেকে গভীর ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
পবিত্র শবে বরাতের এই মহিমান্বিত রাত সবাইকে আত্মিক শান্তি, মানবিক শিক্ষা এবং নাজাতের আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ প্রদর্শন করছে। সকলকে উত্সর্গ করা উচিত ইবাদত, দোয়া ও কল্যাণমূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করার মাধ্যমে সমাজ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার জন্য।
লেখক
মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিক ও কলামিস্ট



















