০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি সাম্রাজ্য’ ও পাচার চক্রের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি নেটওয়ার্ক’ ও পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৩০১৭ বার পঠিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় হুন্ডি, চোরাচালান ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার হরিমঙ্গল ও তেতাভূমি সুশীদল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, স্থানীয়ভাবে পরিচিত সুমন মেম্বারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে পারাপারে সহযোগিতা, সীমান্তপথে বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং অবৈধ হুন্ডি লেনদেনের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি সুমন মেম্বার।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় কসমেটিকস, শাড়ি, মোবাইল ফোন, মোবাইল ডিসপ্লে, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অবৈধ অর্থ লেনদেন বা হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সুমন মেম্বার বলেন,”আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কোনো ধরনের হুন্ডি, মানব পাচার বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নই। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। প্রয়োজনে তদন্ত হোক, আমি আইনগতভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি এই থানায় মাত্র কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। তাই আগের সব বিষয় এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি। তবে সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,যেহেতু আপনি বিষয়টি আমার নজরে এনেছেন, তাই অভিযোগগুলো আবারও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে পুনরায় তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে এই দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সুমন মেম্বারকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষায়ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি নেটওয়ার্ক’ ও পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ

কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি সাম্রাজ্য’ ও পাচার চক্রের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি নেটওয়ার্ক’ ও পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৪:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় হুন্ডি, চোরাচালান ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার হরিমঙ্গল ও তেতাভূমি সুশীদল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, স্থানীয়ভাবে পরিচিত সুমন মেম্বারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে পারাপারে সহযোগিতা, সীমান্তপথে বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং অবৈধ হুন্ডি লেনদেনের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি সুমন মেম্বার।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় কসমেটিকস, শাড়ি, মোবাইল ফোন, মোবাইল ডিসপ্লে, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অবৈধ অর্থ লেনদেন বা হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সুমন মেম্বার বলেন,”আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কোনো ধরনের হুন্ডি, মানব পাচার বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নই। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। প্রয়োজনে তদন্ত হোক, আমি আইনগতভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি এই থানায় মাত্র কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। তাই আগের সব বিষয় এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি। তবে সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,যেহেতু আপনি বিষয়টি আমার নজরে এনেছেন, তাই অভিযোগগুলো আবারও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে পুনরায় তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে এই দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সুমন মেম্বারকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষায়ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।