১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ‘আমার দেশ’ প্রতিনিধি এম হাসান ও পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৪৮ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার

কুমিল্লায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম হাসান ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে অডিও বার্তা ও ফটোকার্ড পাঠানো হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন।

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রায় এক মিনিটের অডিও বার্তায় এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন—

“হাসান সাহেব, কেমন আছেন আপনি? আমার দেশ পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি হাসান সাহেবই বলছেন তো? আমাকে চিনবেন না। আমার পরিচয়ও জানতে পারবেন না। শুধু ভয়েসটা পাঠাচ্ছি… এই ভয়েসটাই আপনার লাইফ নির্ধারণ করে দিবে—আপনি বাঁচবেন কি না, আপনার পরিবার বাঁচবে কি না। আপনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে রিপোর্টগুলো করছেন, পত্রিকা থাকবে কিন্তু আপনি থাকবেন না…।”

হুমকিদাতা আরও বলেন—“আপনাকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি। আপনি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নন। আপনাকে লকেট করা হয়েছে—পরিবারসহ। শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে যেকোনো সময় আপনাকে দুনিয়া থেকে নাই করে দিতে পারি। জমায়াত-শিবিরের এজেন্ডা হয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করছেন। সত্য খবর করুন, মিথ্যা না। নিজের লাইফ ঝুঁকিতে ফেলবেন না। জয় বাংলা।”

প্রেরিত ফটোকার্ডে লেখা হয়—“দায়িত্ব পালন করে দ্রুত রিপোর্ট সেন্ট্রালে পাঠাবেন। লাশ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে আসে। টিম–৩ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এই বার্তা এবং অডিও একসঙ্গে পাঠানো হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর এম হাসান কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।এ বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমদ খাঁন আমার দেশ–কে বলেন—“সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সাংবাদিক ও পুলিশ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকির সম্মুখীন হয়। আপনি থানায় জিডি করেছেন—আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন—আমার দেশ প্রতিনিধি এম হাসান সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাকে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিককে নয়, সমগ্র সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর প্রয়াস। তারা বলেন—“এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান—ঘটনাটি কুমিল্লায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ,হুমকিদাতারা সংগঠিত না হলে এমন বক্তব্য দিতে সাহস পেত না ,প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এই প্রবণতা বাড়তে পারে

তারা বলেন, “সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”

হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এম হাসান বলেন—আমি সত্য প্রকাশের জন্য কাজ করি। আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করার হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

কুমিল্লায় ‘আমার দেশ’ প্রতিনিধি এম হাসান ও পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি

Update Time : ১১:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার

কুমিল্লায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম হাসান ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে অডিও বার্তা ও ফটোকার্ড পাঠানো হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন।

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রায় এক মিনিটের অডিও বার্তায় এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন—

“হাসান সাহেব, কেমন আছেন আপনি? আমার দেশ পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি হাসান সাহেবই বলছেন তো? আমাকে চিনবেন না। আমার পরিচয়ও জানতে পারবেন না। শুধু ভয়েসটা পাঠাচ্ছি… এই ভয়েসটাই আপনার লাইফ নির্ধারণ করে দিবে—আপনি বাঁচবেন কি না, আপনার পরিবার বাঁচবে কি না। আপনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে রিপোর্টগুলো করছেন, পত্রিকা থাকবে কিন্তু আপনি থাকবেন না…।”

হুমকিদাতা আরও বলেন—“আপনাকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি। আপনি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নন। আপনাকে লকেট করা হয়েছে—পরিবারসহ। শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে যেকোনো সময় আপনাকে দুনিয়া থেকে নাই করে দিতে পারি। জমায়াত-শিবিরের এজেন্ডা হয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করছেন। সত্য খবর করুন, মিথ্যা না। নিজের লাইফ ঝুঁকিতে ফেলবেন না। জয় বাংলা।”

প্রেরিত ফটোকার্ডে লেখা হয়—“দায়িত্ব পালন করে দ্রুত রিপোর্ট সেন্ট্রালে পাঠাবেন। লাশ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে আসে। টিম–৩ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এই বার্তা এবং অডিও একসঙ্গে পাঠানো হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর এম হাসান কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।এ বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমদ খাঁন আমার দেশ–কে বলেন—“সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সাংবাদিক ও পুলিশ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকির সম্মুখীন হয়। আপনি থানায় জিডি করেছেন—আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন—আমার দেশ প্রতিনিধি এম হাসান সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাকে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিককে নয়, সমগ্র সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর প্রয়াস। তারা বলেন—“এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান—ঘটনাটি কুমিল্লায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ,হুমকিদাতারা সংগঠিত না হলে এমন বক্তব্য দিতে সাহস পেত না ,প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এই প্রবণতা বাড়তে পারে

তারা বলেন, “সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”

হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এম হাসান বলেন—আমি সত্য প্রকাশের জন্য কাজ করি। আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করার হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”