
আবুল হোসেন বাবলুঃ
দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জের ধরে একই গ্রামের খলিল উদ্দীনের ছেলে বাবু (৪৫) কে কুড়ালদিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিরল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্ত পিতা-পুত্র জামালপুর থেকে গ্রেফতার।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৩ জুন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে বিরল থানাধীন ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে নিহত বাবুর ছেলে রিফাত হোসেন (১৫) এর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এই মামলার ৪নং আসামি শাহীনুরের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিফাতকে মাটিতে ফেলে তার গলা চেপে ধরে শাহীনুর। এই ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উভয়পক্ষকে শান্ত করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
পরক্ষণে শাহীনুরের বাবা মমতাজ আলী তার দুই ছেলে শাহিনুর ও শাখাওয়াতসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং একই এলাকার সাবেক গ্রাম পুলিশ আইনুল, আফজাল, ইউসুফ, মজিবরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মিলে বাবুর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় ধারালো কুড়াল দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করা হয়। বাবুর স্ত্রী ও ছেলে রিফাত এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত বাবু ও তার ছেলে রিফাতকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং রিফাতের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত বাবুর ছেলে সাকিব রানা বাদী হয়ে গত ২৪ জুন দিনাজপুরের বিরল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬)। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসাম সহ অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবহিকতায় সিপিসি-১ র্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সিপিসি-১ র্যাব-১৪ জামালপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল (০১ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে উল্লেখিত মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামিকে জামালপুর জেলার সদর থানাধীন আমতলী এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন ধুলাতৈর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইচ্ছোফ আলীর ছেলে আইনুল ইসলাম (৩৮)।
উক্ত আভিযানিক দলটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ রাত পৌঁনে নয়টার দিকে একই মামলার এজাহার নামীয় ০৮নং আসামিকে জামালপুর জেলার সদর থানাধীন হবিদ্রাটা এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামি একই গ্রামের আইনুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান রকি (২২)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।










