০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার চক মামরোজপুর গ্রামের ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান আসামিকে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ বছর বয়সী মোনালিসা আক্তার (ছদ্মনাম) স্থানীয় কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মোনালিসার মা এবং বাবা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজ করার ফলে মোনালিসা তার নানা-নানীর বাড়িতে থাকে।

অপরদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার অন্তর্ভুক্ত কৃষ্ণপুর গ্রামের রহিম মিয়ার বখাটে ছেলে অভিযুক্ত নোবেল (২০) সেও মোনালিসাদের গ্রামে চক মামরোজপুরে তার নানার বাড়িতে বসবাস করে। নোবেলের ১২ বছর বয়সী বোনের সাথে খেলাধুলা করতে মোনালিসা প্রায়ই ওই বাড়িতে যাওয়া আসা করতো।

গত ০৮ জুন মোনালিসা ওই বাড়িতে খেলতে যায়। খেলা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে লম্পট নোবেল তার সহযোগী তারেক (১৯) এর সহযোগিতায় মুখ চেপে ধরে মোনালিসাকে জনৈক খোরশেদ মন্ডলের নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হত্যা করার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এতে মোনালিসা অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ভিকটিম কোন রকমে সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে এসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভিকটিমের দাদী চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ১৬ জুন গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (যার মামলা নং-৩৭)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বখাটেরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১৩।

এরই ধারাবহিকতায় (০৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সিপিসি-৩ র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা এবং সিপিসি-১ র‌্যাব-৪ মিরপুর-১ ঢাকা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানাধীন (মীরবাড়ী আদি জামে মসজিদ) এলাকা থেকে উল্লেখিত মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার অন্তর্ভুক্ত কৃষ্ণপুর বর্তমান ঠিকানা গাইবান্ধা জেলার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত চক মামরোজপুর গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে নোবেল (২০)। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

Update Time : ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার চক মামরোজপুর গ্রামের ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান আসামিকে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ বছর বয়সী মোনালিসা আক্তার (ছদ্মনাম) স্থানীয় কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মোনালিসার মা এবং বাবা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজ করার ফলে মোনালিসা তার নানা-নানীর বাড়িতে থাকে।

অপরদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার অন্তর্ভুক্ত কৃষ্ণপুর গ্রামের রহিম মিয়ার বখাটে ছেলে অভিযুক্ত নোবেল (২০) সেও মোনালিসাদের গ্রামে চক মামরোজপুরে তার নানার বাড়িতে বসবাস করে। নোবেলের ১২ বছর বয়সী বোনের সাথে খেলাধুলা করতে মোনালিসা প্রায়ই ওই বাড়িতে যাওয়া আসা করতো।

গত ০৮ জুন মোনালিসা ওই বাড়িতে খেলতে যায়। খেলা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে লম্পট নোবেল তার সহযোগী তারেক (১৯) এর সহযোগিতায় মুখ চেপে ধরে মোনালিসাকে জনৈক খোরশেদ মন্ডলের নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হত্যা করার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এতে মোনালিসা অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ভিকটিম কোন রকমে সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে এসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভিকটিমের দাদী চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ১৬ জুন গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (যার মামলা নং-৩৭)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বখাটেরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১৩।

এরই ধারাবহিকতায় (০৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সিপিসি-৩ র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা এবং সিপিসি-১ র‌্যাব-৪ মিরপুর-১ ঢাকা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানাধীন (মীরবাড়ী আদি জামে মসজিদ) এলাকা থেকে উল্লেখিত মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার অন্তর্ভুক্ত কৃষ্ণপুর বর্তমান ঠিকানা গাইবান্ধা জেলার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত চক মামরোজপুর গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে নোবেল (২০)। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।