১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা দক্ষিণে বিএনপির গ্রুপিং, প্রার্থীর ছড়াছড়ি — মাঠে সক্রিয় জামায়াত ও এনসিপি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০২১ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

হোটেল-মোটেল, ব্যাংক ও ট্যাংকের শহরখ্যাত কুমিল্লা এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই জেলার ছয়টি সংসদীয় আসন—কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া), কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সেনানিবাস ও সদর দক্ষিণ), কুমিল্লা-৮ (বরুড়া), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)—সবখানেই চলছে তৎপরতা, হিসাব-নিকাশ আর মনোনয়ন যুদ্ধ।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নতুন আসন বিন্যাস সার্কুলার জারি হওয়ার পর থেকেই জেলার রাজনীতি যেন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যোগ হয়েছে কুমিল্লাকে পৃথক “বিভাগ” ঘোষণার আন্দোলন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে কুমিল্লা ছিল সরকারের নীতিনির্ধারক তিন প্রভাবশালী মন্ত্রীর অন্যতম ঘাঁটি। তাদের প্রভাবিত এলাকায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেটওয়ার্ক তৈরি হলেও, বর্তমানে তারা পলাতক বা নিষ্ক্রিয় থাকায় ভোটারদের একাংশ বিভক্ত। এ সুযোগে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য জোটভুক্ত দলগুলো পুনরায় মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে বিএনপির অভ্যন্তরে গ্রুপিং, কোন্দল ও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে জেলার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আসনে ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও এখন দলটি কোন্দলে জর্জরিত। একাধিক প্রার্থী ও ভেতরকার বিভাজন দীর্ঘদিন ধরেই এ আসনের নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করছে।

এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন—এটিএম মিজানুর রহমান, সভাপতি, বুড়িচং উপজেলা বিএনপি.হাজী জসিম উদ্দিন, সাবেক সদস্যসচিব, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও সভাপতি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপি ,ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ,এএসএম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক সহসভাপতি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ,অ্যাডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলম, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, দক্ষিণ জেলা বিএনপি ,শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে ড. মোবারক হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন এবং নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির তৎপরতা এখানে তেমন লক্ষ করা না গেলেও, ব্যারিস্টার সোহরাব হোসেন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লিফলেট ও ব্যানার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুমিল্লা জেলার কেন্দ্রীয় রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণ এই আসনেই। এখানে অবস্থিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, মেডিক্যাল কলেজ, সেনানিবাস, শিক্ষাবোর্ড ও কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সাবেক নেতা ও নৌপরিবহন মন্ত্রী আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর এই আসনটি হাতছাড়া হয়। বর্তমানে শিল্পপতি হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিনের নেতৃত্বে দলটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। তবে ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রভাবশালী ধারা— হাজী ইয়াছিন গ্রুপ,সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপ, সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপ।

২০২২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় মনিরুল হক সাক্কু এবং নিজাম উদ্দিন কায়সারকে বিএনপি আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। যদিও এ বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল আছে, তবে সাক্কু এখনো নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি ধরে রেখেছেন।

দলীয় প্রার্থী না হলেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, “দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি জনগণের ভোটে লড়বেন।”

অন্যদিকে সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সদর আসন থেকে আবারও মনোনয়ন চাইবেন বলে তার অনুসারীরা জানাচ্ছেন।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—কাউসার জামান বাপ্পী, চেয়ারম্যান, মুহাম্মদ নুরুল হক ফাউন্ডেশন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এ.বি.এস গ্রুপমোস্তাক মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ), বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

সবাইই দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন বলেন,“দুর্দিনে আমি দল এবং কর্মীদের ছেড়ে যাইনি। এখন দলে কোনো কোন্দল নেই। সাক্কু বহিষ্কৃত, তিনি দলের কেউ নন। আমি এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইব এবং দলের পক্ষে কাজ করব।”

তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়াছিন-সাক্কু বিরোধ এবং তৃণমূলে বিভক্তি নিরসন না হলে এই আসন পুনরুদ্ধার বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।

বিএনপির কোন্দল ও নেতৃত্বসংকটের সুযোগে জামায়াত ইতিমধ্যেই তাদের সাংগঠনিক পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে। ড. মোবারক হোসেন ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় নেতারা মাঠে গণসংযোগ জোরদার করেছেন।

একই সঙ্গে, ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি (এনসিপি) এবং কিছু ইসলামপন্থী ছোট দলও তৃণমূলে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা দক্ষিণের ছয়টি আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বই হতে পারে বড় বাধা। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি এ ভোটে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

কুমিল্লা বিভাগ আন্দোলন এবং পুরনো আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের অবস্থানও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কুমিল্লা দক্ষিণ এখন রাজনৈতিকভাবে এক উত্তপ্ত অঙ্গন—যেখানে দলের ভিতরে-বাইরে চলছে প্রচারণা, হিসাব, আর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিএনপির গ্রুপিং ও জামায়াতের পুনরুত্থান এই জেলার রাজনীতিকে করছে আরও জটিল ও অনিশ্চিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

কুমিল্লা দক্ষিণে বিএনপির গ্রুপিং, প্রার্থীর ছড়াছড়ি — মাঠে সক্রিয় জামায়াত ও এনসিপি

Update Time : ০২:২৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

হোটেল-মোটেল, ব্যাংক ও ট্যাংকের শহরখ্যাত কুমিল্লা এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই জেলার ছয়টি সংসদীয় আসন—কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া), কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সেনানিবাস ও সদর দক্ষিণ), কুমিল্লা-৮ (বরুড়া), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)—সবখানেই চলছে তৎপরতা, হিসাব-নিকাশ আর মনোনয়ন যুদ্ধ।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নতুন আসন বিন্যাস সার্কুলার জারি হওয়ার পর থেকেই জেলার রাজনীতি যেন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যোগ হয়েছে কুমিল্লাকে পৃথক “বিভাগ” ঘোষণার আন্দোলন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে কুমিল্লা ছিল সরকারের নীতিনির্ধারক তিন প্রভাবশালী মন্ত্রীর অন্যতম ঘাঁটি। তাদের প্রভাবিত এলাকায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেটওয়ার্ক তৈরি হলেও, বর্তমানে তারা পলাতক বা নিষ্ক্রিয় থাকায় ভোটারদের একাংশ বিভক্ত। এ সুযোগে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য জোটভুক্ত দলগুলো পুনরায় মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে বিএনপির অভ্যন্তরে গ্রুপিং, কোন্দল ও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে জেলার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আসনে ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও এখন দলটি কোন্দলে জর্জরিত। একাধিক প্রার্থী ও ভেতরকার বিভাজন দীর্ঘদিন ধরেই এ আসনের নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করছে।

এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন—এটিএম মিজানুর রহমান, সভাপতি, বুড়িচং উপজেলা বিএনপি.হাজী জসিম উদ্দিন, সাবেক সদস্যসচিব, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও সভাপতি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপি ,ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ,এএসএম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক সহসভাপতি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ,অ্যাডভোকেট আ হ ম তাইফুর আলম, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, দক্ষিণ জেলা বিএনপি ,শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে ড. মোবারক হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন এবং নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির তৎপরতা এখানে তেমন লক্ষ করা না গেলেও, ব্যারিস্টার সোহরাব হোসেন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লিফলেট ও ব্যানার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুমিল্লা জেলার কেন্দ্রীয় রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণ এই আসনেই। এখানে অবস্থিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, মেডিক্যাল কলেজ, সেনানিবাস, শিক্ষাবোর্ড ও কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সাবেক নেতা ও নৌপরিবহন মন্ত্রী আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর এই আসনটি হাতছাড়া হয়। বর্তমানে শিল্পপতি হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিনের নেতৃত্বে দলটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। তবে ভেতরে রয়েছে তিনটি প্রভাবশালী ধারা— হাজী ইয়াছিন গ্রুপ,সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপ, সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপ।

২০২২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় মনিরুল হক সাক্কু এবং নিজাম উদ্দিন কায়সারকে বিএনপি আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে। যদিও এ বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল আছে, তবে সাক্কু এখনো নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি ধরে রেখেছেন।

দলীয় প্রার্থী না হলেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, “দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি জনগণের ভোটে লড়বেন।”

অন্যদিকে সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সদর আসন থেকে আবারও মনোনয়ন চাইবেন বলে তার অনুসারীরা জানাচ্ছেন।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—কাউসার জামান বাপ্পী, চেয়ারম্যান, মুহাম্মদ নুরুল হক ফাউন্ডেশন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এ.বি.এস গ্রুপমোস্তাক মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ), বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি

সবাইই দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এদিকে হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন বলেন,“দুর্দিনে আমি দল এবং কর্মীদের ছেড়ে যাইনি। এখন দলে কোনো কোন্দল নেই। সাক্কু বহিষ্কৃত, তিনি দলের কেউ নন। আমি এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইব এবং দলের পক্ষে কাজ করব।”

তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়াছিন-সাক্কু বিরোধ এবং তৃণমূলে বিভক্তি নিরসন না হলে এই আসন পুনরুদ্ধার বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।

বিএনপির কোন্দল ও নেতৃত্বসংকটের সুযোগে জামায়াত ইতিমধ্যেই তাদের সাংগঠনিক পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে। ড. মোবারক হোসেন ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় নেতারা মাঠে গণসংযোগ জোরদার করেছেন।

একই সঙ্গে, ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি (এনসিপি) এবং কিছু ইসলামপন্থী ছোট দলও তৃণমূলে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা দক্ষিণের ছয়টি আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বই হতে পারে বড় বাধা। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি এ ভোটে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

কুমিল্লা বিভাগ আন্দোলন এবং পুরনো আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের অবস্থানও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কুমিল্লা দক্ষিণ এখন রাজনৈতিকভাবে এক উত্তপ্ত অঙ্গন—যেখানে দলের ভিতরে-বাইরে চলছে প্রচারণা, হিসাব, আর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিএনপির গ্রুপিং ও জামায়াতের পুনরুত্থান এই জেলার রাজনীতিকে করছে আরও জটিল ও অনিশ্চিত।