০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ ছিল সাভার

মোঃ শান্ত খান বিশেষ প্রতিনিধি

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থানা-পুলিশের কার্যক্রম যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পায়। তার যোগদান শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এ যেন ছিল সাভার থানা এলাকার মানুষের জন্য এক দক্ষ অভিভাবকের আগমন।

দীর্ঘদিন ভঙ্গুর, নানামুখী চ্যালেঞ্জে জর্জরিত সাভার মডেল থানা তার নেতৃত্বে পায় নতুন গতি, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। থানা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সেবার মান—সব ক্ষেত্রেই চলে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রয়াস। সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত শ্রেণির জন্য তিনি হয়ে ওঠেন ‘গরীবের ওসি’। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ মনে করতেন। দিনের পর দিন ওসির এই নির্ঘুম রাত যাপনে নিরাপদ ছিল সাভার।

তার নেতৃত্বে সাভার মডেল থানা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অনেক থানার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টিনন্দন সফলতা অর্জন করে। অপরাধ দমন, দ্রুত অভিযান, পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঘটনা তদন্ত—সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন অনন্য দক্ষতা। ফলে সাভার থানায় জন্ম নেয় নতুন আস্থা, নতুন নিরাপত্তাবোধ।

১ বছর ২ মাস ২৩ দিনের মধ্যে পাঁচবার ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হওয়া তার দক্ষতার প্রতিফলন। শুধু পদক নয়, জনমানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

সাভার থানা এলাকায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধে  ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিরোধ-চরিত্রের নাম জুয়েল মিঞা। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হয়রানি, বেআইনি তৎপরতা দমনে তার দৃঢ় অবস্থানও থানা এলাকাকে এক নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনে। এতে তিনি মানুষের চোখে হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়পরায়ণ পুলিশ অফিসার হিসেবে।

এখন তার পরবর্তী কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা। সাভারের মানুষ যেমন তাকে বিদায় জানাতে আবেগভরে মনে রেখেছেন, ঠিক তেমনি শ্রীনগরের মানুষও তার নেতৃত্বে নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। সাভারে যেমন তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি শ্রীনগরেও তিনি দক্ষ পুলিশিং, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা সর্বত্র।
সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, দল মত নির্বিশেষে সবার অভিভাবক, এক কথায় ‘মানুষের ওসি’ হিসেবে মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আগামী দিনে শ্রীনগর থানাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এটাই জনমানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।

সার্বিকভাবে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ, সততা, মানবিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব কিভাবে একটি এলাকার পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে—ওসি জুয়েল মিঞা তার জীবন্ত উদাহরণ। সাভারের মানুষ তাকে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে স্মরণ করবে, আর শ্রীনগরের মানুষ আগামীর উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক পুলিশিংয়ের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তার দিকে।

পরিশেষে সাভারের মতো শ্রীনগরেও কাটুক ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ থাকুক তার পরবর্তী কর্মস্থলের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। অনেক অনেক শুভকামনা, ভালোবাসা নিরন্তর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ ছিল সাভার

Update Time : ১০:২৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ শান্ত খান বিশেষ প্রতিনিধি

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থানা-পুলিশের কার্যক্রম যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পায়। তার যোগদান শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এ যেন ছিল সাভার থানা এলাকার মানুষের জন্য এক দক্ষ অভিভাবকের আগমন।

দীর্ঘদিন ভঙ্গুর, নানামুখী চ্যালেঞ্জে জর্জরিত সাভার মডেল থানা তার নেতৃত্বে পায় নতুন গতি, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। থানা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সেবার মান—সব ক্ষেত্রেই চলে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রয়াস। সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত শ্রেণির জন্য তিনি হয়ে ওঠেন ‘গরীবের ওসি’। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ মনে করতেন। দিনের পর দিন ওসির এই নির্ঘুম রাত যাপনে নিরাপদ ছিল সাভার।

তার নেতৃত্বে সাভার মডেল থানা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অনেক থানার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টিনন্দন সফলতা অর্জন করে। অপরাধ দমন, দ্রুত অভিযান, পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঘটনা তদন্ত—সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন অনন্য দক্ষতা। ফলে সাভার থানায় জন্ম নেয় নতুন আস্থা, নতুন নিরাপত্তাবোধ।

১ বছর ২ মাস ২৩ দিনের মধ্যে পাঁচবার ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হওয়া তার দক্ষতার প্রতিফলন। শুধু পদক নয়, জনমানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

সাভার থানা এলাকায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধে  ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিরোধ-চরিত্রের নাম জুয়েল মিঞা। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হয়রানি, বেআইনি তৎপরতা দমনে তার দৃঢ় অবস্থানও থানা এলাকাকে এক নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনে। এতে তিনি মানুষের চোখে হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়পরায়ণ পুলিশ অফিসার হিসেবে।

এখন তার পরবর্তী কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা। সাভারের মানুষ যেমন তাকে বিদায় জানাতে আবেগভরে মনে রেখেছেন, ঠিক তেমনি শ্রীনগরের মানুষও তার নেতৃত্বে নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। সাভারে যেমন তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি শ্রীনগরেও তিনি দক্ষ পুলিশিং, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা সর্বত্র।
সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, দল মত নির্বিশেষে সবার অভিভাবক, এক কথায় ‘মানুষের ওসি’ হিসেবে মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আগামী দিনে শ্রীনগর থানাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এটাই জনমানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।

সার্বিকভাবে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ, সততা, মানবিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব কিভাবে একটি এলাকার পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে—ওসি জুয়েল মিঞা তার জীবন্ত উদাহরণ। সাভারের মানুষ তাকে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে স্মরণ করবে, আর শ্রীনগরের মানুষ আগামীর উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক পুলিশিংয়ের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তার দিকে।

পরিশেষে সাভারের মতো শ্রীনগরেও কাটুক ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ থাকুক তার পরবর্তী কর্মস্থলের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। অনেক অনেক শুভকামনা, ভালোবাসা নিরন্তর।