০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৩০২৭ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা প্রায় এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

সিএমপি কমিশনার জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে কিছু নতুন পদায়নও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল। ওই সময় তার ব্যাগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার তথ্য উঠে আসে।

পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের ব্যাগ থেকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত মাদক যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে সরিয়ে ফেলা হয়।

ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন পান।

ঘটনা সামনে আসার পর সিএমপি গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার সীমান্তে ‘হুন্ডি নেটওয়ার্ক’ ও পাচার সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ

ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার

Update Time : ০২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মো. শাহজাহান বাশার

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা প্রায় এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

সিএমপি কমিশনার জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে কিছু নতুন পদায়নও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল। ওই সময় তার ব্যাগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার তথ্য উঠে আসে।

পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের ব্যাগ থেকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত মাদক যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে সরিয়ে ফেলা হয়।

ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন পান।

ঘটনা সামনে আসার পর সিএমপি গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।