০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৩০০১ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

তামিল চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্ময়কর সাফল্যে রূপ নিয়েছে।

২০২৪ সালে তার প্রতিষ্ঠিত দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ইতোমধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৭টি আসনে জয় পেয়ে দলটি একক বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা দূরে, তবুও এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে বিজয়ের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও সংগঠনিক প্রস্তুতি। ২০০৯ সালে গঠিত ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলে, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দলের জন্য মজবুত কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

যদি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হন, তবে প্রায় পাঁচ দশক পর তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি এই পদে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি এম জি রামচন্দ্রন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি মূলত এমজিআরের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই ক্ষমতায় আসেন।

বিজয়ের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জনমুখী অবস্থান। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তার সরব ভূমিকা এবং বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, রাজনীতিতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করার লক্ষ্যে তিনি তার প্রায় তিন দশকের সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন। প্রায় ৭০টির বেশি সিনেমায় অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত জনসাধারণের কাছে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে—বিজয়ের কাছে রাজনীতি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় তার ভিন্নধর্মী কৌশলও আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কথা শোনা ও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগমের ঘটনায় তার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও দায় স্বীকারের মানসিকতা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকেএআইএডিএমকে-এর মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর পাশাপাশি বিজয়ের দল একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই দ্রুত উত্থান শুধু তামিলনাড়ুতেই নয়, গোটা ভারতের রাজনীতিতেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এই জনপ্রিয়তা ও সমর্থনকে কতটা কার্যকর শাসনে রূপ দিতে পারেন থালাপতি বিজয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

অভিনেতা থেকে নেতা: থালাপতি বিজয়ের উত্থানে বদলাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতি

Update Time : ০১:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

তামিল চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্ময়কর সাফল্যে রূপ নিয়েছে।

২০২৪ সালে তার প্রতিষ্ঠিত দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ইতোমধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৭টি আসনে জয় পেয়ে দলটি একক বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা দূরে, তবুও এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে বিজয়ের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও সংগঠনিক প্রস্তুতি। ২০০৯ সালে গঠিত ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলে, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দলের জন্য মজবুত কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

যদি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হন, তবে প্রায় পাঁচ দশক পর তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি এই পদে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি এম জি রামচন্দ্রন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি মূলত এমজিআরের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই ক্ষমতায় আসেন।

বিজয়ের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জনমুখী অবস্থান। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তার সরব ভূমিকা এবং বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, রাজনীতিতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করার লক্ষ্যে তিনি তার প্রায় তিন দশকের সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন। প্রায় ৭০টির বেশি সিনেমায় অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত জনসাধারণের কাছে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে—বিজয়ের কাছে রাজনীতি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় তার ভিন্নধর্মী কৌশলও আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কথা শোনা ও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগমের ঘটনায় তার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও দায় স্বীকারের মানসিকতা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকেএআইএডিএমকে-এর মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর পাশাপাশি বিজয়ের দল একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই দ্রুত উত্থান শুধু তামিলনাড়ুতেই নয়, গোটা ভারতের রাজনীতিতেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এই জনপ্রিয়তা ও সমর্থনকে কতটা কার্যকর শাসনে রূপ দিতে পারেন থালাপতি বিজয়।