০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঐক্য ভাঙনের দায় কার?

১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের গুঞ্জন, ভাঙনের দায় কার?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৫১ বার পঠিত হয়েছে

ছবি: “দশদিক” থেকে নেয়া

১২ দলীয় ইসলামী জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর অতিরিক্ত আসন দাবির কারণে আলোচিত সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী দলসমূহের দেওয়া ১৪০ আসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত ২০০ থেকে ১৯০ আসনের নিচে নামতে নারাজ থাকায় সমঝোতা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে বাদ দিয়েই বাকি দলগুলো আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে— সমঝোতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াতের এককভাবে এনসিপির সঙ্গে আলোচনা, নিজেদের নেতৃত্বাধীন জোট ঘোষণা এবং অন্যান্য শরিকদের প্রতি একতরফা আচরণ।

ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, অতীতে ৩০টির বেশি আসনে নির্বাচন না করা দল হওয়া সত্ত্বেও জামায়াত বর্তমানে অতিরিক্ত আসনের দাবি করছে, যা অন্যান্য শরিক দলের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আচরণে মনে হচ্ছে তারা আগেও একাধিকবার সরকার গঠন করেছে— বাস্তবতা যা নয়।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী দলগুলোর দেওয়া রাজনৈতিক স্পেসের সুযোগ নিয়ে জামায়াত এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে নিয়ে আলাদা একটি জোট গঠন করেছে। পরে সেটিকে মিডিয়ায় ‘জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট’ হিসেবে উপস্থাপন করায় মূল সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ফাটল ধরে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার নীতির বাইরে গিয়ে কোনো দাবি মানা হবে না। একই সুরে কথা বলেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ জোর করে আসন দখলের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তারা এককভাবে নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতা বলেন,

“সমঝোতার নীতির বাইরে কেউ গেলে আমরা শূরা কমিটির বৈঠকে বসে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।”

তবে এখনও আশার আলো দেখছেন কেউ কেউ। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, জামায়াত যদি ১৪০ আসনের প্রস্তাবে সম্মত হয়, তাহলে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা টিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী জোটের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে— তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা।

এইচ এম আবু ইউসুফ, বিশেষ প্রতিনিধি “দশদিক”

https://www.doshdik24.com/1136?fbclid=IwY2xjawPS6ydleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFJWU1jOUF6WWphRzRVOE9Yc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHveBEZsAu7hy084rHVUxpJU_Vw4w5l15uGo9DozxPS66554h8HOaZl_xwVBi_aem_oExEDFfeAzvAbIltbO6fjQ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জোহানেসবার্গে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি, নোয়াখালীতে শোকের মাতম

ঐক্য ভাঙনের দায় কার?

১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের গুঞ্জন, ভাঙনের দায় কার?

Update Time : ০৩:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

১২ দলীয় ইসলামী জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর অতিরিক্ত আসন দাবির কারণে আলোচিত সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী দলসমূহের দেওয়া ১৪০ আসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত ২০০ থেকে ১৯০ আসনের নিচে নামতে নারাজ থাকায় সমঝোতা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে বাদ দিয়েই বাকি দলগুলো আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে— সমঝোতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াতের এককভাবে এনসিপির সঙ্গে আলোচনা, নিজেদের নেতৃত্বাধীন জোট ঘোষণা এবং অন্যান্য শরিকদের প্রতি একতরফা আচরণ।

ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, অতীতে ৩০টির বেশি আসনে নির্বাচন না করা দল হওয়া সত্ত্বেও জামায়াত বর্তমানে অতিরিক্ত আসনের দাবি করছে, যা অন্যান্য শরিক দলের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আচরণে মনে হচ্ছে তারা আগেও একাধিকবার সরকার গঠন করেছে— বাস্তবতা যা নয়।

আরও অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী দলগুলোর দেওয়া রাজনৈতিক স্পেসের সুযোগ নিয়ে জামায়াত এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে নিয়ে আলাদা একটি জোট গঠন করেছে। পরে সেটিকে মিডিয়ায় ‘জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট’ হিসেবে উপস্থাপন করায় মূল সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ফাটল ধরে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার নীতির বাইরে গিয়ে কোনো দাবি মানা হবে না। একই সুরে কথা বলেছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ জোর করে আসন দখলের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তারা এককভাবে নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতা বলেন,

“সমঝোতার নীতির বাইরে কেউ গেলে আমরা শূরা কমিটির বৈঠকে বসে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।”

তবে এখনও আশার আলো দেখছেন কেউ কেউ। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, জামায়াত যদি ১৪০ আসনের প্রস্তাবে সম্মত হয়, তাহলে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা টিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী জোটের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে— তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা।

এইচ এম আবু ইউসুফ, বিশেষ প্রতিনিধি “দশদিক”

https://www.doshdik24.com/1136?fbclid=IwY2xjawPS6ydleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFJWU1jOUF6WWphRzRVOE9Yc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHveBEZsAu7hy084rHVUxpJU_Vw4w5l15uGo9DozxPS66554h8HOaZl_xwVBi_aem_oExEDFfeAzvAbIltbO6fjQ